ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে সরকারের ‘সাড়া পাচ্ছে না’ দুদক -চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার : বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে দুর্নীতি দমন কমিশন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে চাইলেও সরকারের তরফ থেকে সাড়া মেলে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা এ সংস্থার চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, “আমরা সরকারকে বলেছিলাম, বড় বড় প্রোজেক্টে যদি উনারা মনে করেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সাহায্য দরকার, কেবিনেট ডিভিশনেও আমরা বলেছি.... তো, আমরা আসলে এমন কোনো রেসপন্স পাইনি।” গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, সরকারের সাড়া পাওয়া না গেলেও তিনি হতাশ নন। বড় প্রকল্পের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক স্ব-প্রণোদিত হয়েই কাজ করছে। “দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়টা চলমান। সরকার চেষ্টা করছে, কেবিনেট ডিভিশনে বলা হয়েছে মাত্র, যাতে দুর্নীতি হওয়ার আগেই দুর্নীতি বন্ধ ও প্রতিরোধ করা যায়। এটা বুঝতেও সময় লাগে।”
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ক্রয়-প্রক্রিয়া, জনবল নিয়োগ, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অনিয়মের পথ বন্ধের বিষয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে ২০১৬ সালের গত ৩১ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে একটি ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) পাঠায় দুদক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণার বরাত দিয়ে ওই চিঠিতে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হলে প্রতিবছর দেশের জিডিপি প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সে সময় বলেছিলেন, দুদকের অনুরোধ পাওয়ার পর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে ‘দুর্নীতির ধূসর এলাকা’ শনাক্ত করে সেগুলো দুর্নীতি দমন কর্মসূচির আওতায় আনতে সচিবদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তার কোনো হালনাগাদ তথ্য জানতে পারেনি।
বেসরকারি খাতের ব্যাংকে দুর্নীতি বেড়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “না, এ কথাটা ঠিক না। কেলেঙ্কারি বাড়ছে না, বরং ব্যাংকিং খাতে কেলেঙ্কারি কমছে। আমার ধারণা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন শুরু হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে। ব্যাংকের বোর্ডগুলো ভালোভাবে কাজ করছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। কারণ এই খাতে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।”
দুর্নীতির সম্পদ স্ত্রীর নামে দেখানোর যে প্রবণতা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন ইকবাল মাহমুদ।  তিনি বলেন, “আমরা ইদানিং দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, প্রায় ১০টি মামলায় মূলত যাদের আসামী হওয়ার কথা, সেখানে তাদের স্ত্রীরাও আসামী হয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি সামাজিক সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। স্ত্রীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলছেন, তারা কিছুই জানেন না।” এটি আসলে একটি সামাজিক ব্যাধি। এর প্রতিরোধে আমরা ক্যাম্পেইন করব, যেন স্ত্রীদের নামে কোনও অবৈধ সম্পত্তি রাখা না যায়।’
এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে দুদক এ বছর কাজ করবে বলে জানিছেন ইকবাল মাহমুদ। পাশাপাশি প্রকৌশল খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধেও জোর দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। “সরকারি টেন্ডার ও ক্রয়-বিক্রয়ে যাতে অনিয়ম না হয় সেজন্য প্রকৌশলীদের সাথে সভা করে বলা হবে, সরকারি অর্থ যাতে অপচয় না হয়, সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের বাজেটের সিংহ ভাগই যায় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে।”
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, কেবল বিরোধী দল নয়, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সম্পত্তির হিসাব নিয়েও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘যারা সরকারি দলের সংসদ সদস্য, তাদের সম্পত্তির হিসাব নিয়েও দুদক কাজ করছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের ভূমিকা একটাই। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়, তাদের সম্পত্তির সঠিক হিসাব দিতে হবে। আমরা দুয়েকজন সংসদ সদস্যের সম্পত্তির সঠিক হিসাব পাইনি। তবে আমরা চাই, যারা জনগণের প্রতিনিধি হবেন, তারা সঠিকভাবে নির্বাচন কমিশনে সম্পত্তির হিসাব দেবেন।’
স্বপ্রণোদিত হয়ে দুদক কোনও ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘না, এমন কোনও ব্যবস্থা আমরা নেবো না। আমাদের চোখের সামনে কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে দুয়েকজন সংসদ সদস্যের বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেটি নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ