ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রেললাইন দ্বিখন্ড ॥ জনজীবন বিপর্যস্ত

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : গতকাল সোমবার ৩য় দিনের মতো চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৪ মাত্রার তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপন্নের পাশাপাশি তীব্র শীতে রেললাইন সংকুচিত হয়ে জেলার উথলীতে রেললাইন দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে। উথলী স্টেশনে কর্মরত পিডব্লিউআই হাবিবুল হক জানান- গতকাল সকালে নিয়মিত চেকিংকালে তিনি উথলী হাইস্কুলের সামনে গোলার নীচের সাইন রেললাইনটি ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পান। তীব্র ঠান্ডায় রেললাইন সংকুচিত হয়ে রাতের কোন এক সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারতো। এই ঘটনায় সকাল থেকেই সকল ট্রেন থামিয়ে ধীরে ধীরে ভাঙ্গাস্থল অতিক্রম করানো হয়, পরে বিকাল ৩ টায় মোবারকগঞ্জ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে রেললাইনটি মেরামত করলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ দিনে সহ¯্রাধিক শিশু ও বয়স্ক মানুষ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। তীব্র শীতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী। শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, জন্ডিস, সর্দি জ্বরে ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা। 

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সামাদুল হক জানান, নতুন বছরের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থা আরো দুএকদিন থাকতে পারে। সকালে তীব্র কুয়াশার কারনে সূর্যের দেখা মিলছে অনেক দেরিতে,তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়লেও হিমেল হাওয়ায় তা যেন হারিয়ে যায়। 

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। সাধারণ মানুষ শীতের কাঁপুনি থেকে রক্ষা পেতে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর হতে বের হচ্ছে না। তীব্র শীতের কারণে যাত্রী কম থাকায় যান চলাচলও কমে গেছে। শীতে কাজ না থাকায় খেটে খাওয়া মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এক রকম অসহায় জীবনযাপন করছে। সাধারণ মানুষ শীতের তীব্রতার কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে ফসলের মাঠেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা। চলতি রবি মরসুমে এ অঞ্চলের মাঠে রয়েছে আলু, পান, ডাল, ভুট্টা, সবজি ও বোরোর বীজতলা। বিশেষ করে মাঠে থাকা আলুর ফসলে লেট ব্রাইট (পচন রোগ) ছড়িয়ে পড়েছে। আর বোরো ক্ষেতের বীজতলায় দেখা দিয়েছে কোল্ড ইনজুরি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, বীজ তলায় জমে থাকা শিশির ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ