ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তৃতীয় দফায় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বেসিকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু

স্টাফ রিপোর্টার : সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিযোগের মুখে থাকা বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গতকাল সোমবার দুপুরে বাচ্চুকে দুদক কার্যালয়ে এলে কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হয় বলে দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য জানান।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে তিনি দুদকের কাছে এক মাস সময় চান। কিন্তু দুদক সেই আবেদন প্রত্যাখান করে।
বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে দুদকের তলবে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার হাজির হন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চু। একদিন বিরতি দিয়ে ৬ ডিসেম্বর প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। আবদুল হাই বাচ্চুর সম্পদ নিয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। কমিশনের উপ-পরিচালক শামসুল আলমকে এর অনুসন্ধান করছেন।
২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে, পরে দুদক ৫৬টি মামলা করে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার বিষয়ে আগের দুই দিন বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা।
প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঋণে অনিয়মের ঘটনায় নিজেকে তিনি দোষী মনে করেন না।
বাচ্চুকে আসামী না করেই মামলা দায়েরের পর সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে। সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক।
২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক।
ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গত বছর রাজাধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামী করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামীদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত। বাচ্চুকে আসামী না করার বিষয়ে দুদক তখন যুক্তি দেখিয়েছিল, এই অনিয়মে তার সংশ্লিষ্টতা তারা পায়নি।
এরপর সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের নিয়োগ করা নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে অনিয়মিত ঋণ মঞ্জুর, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল।
গত অগাস্টে এক মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের অন্য কাউকে আসামী না করায় উষ্মা প্রকাশ করে। ব্যক্তি যেই হোক না কেন- এ ধরনের মামলায় আসামী করার ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ যেন না হয় সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সে সময় সতর্ক করে আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ