ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এক বছরে ১ হাজারেরও বেশী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে -হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

স্টাফ রিপোর্টার: গত বছর সংখ্যালঘু (ধর্মীয় ও জাতিগত) ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর কমপক্ষে এক হাজার চারটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কোন বিচার হয়নি। অধিকাংশ ঘটনাই ছিল রাজনৈতিক। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের নেতারা এসব তথ্য জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে কাজল দেবনাথ, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, জয়ন্ত সেন, দীপুভিক্ষু, সুধীনন্দ প্রিয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
তবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতারা বলছেন, ২০১৬ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ছিল আরো বেশি, ১ হাজার ৪৭১টি। সে হিসাবে ২০১৭ সালে সহিংসতার ঘটনা একটু কম। সংগঠনটি বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সহিংসতার ঘটনা কমেছে ৪৬৭টি।
জাতীয় সংবাদপত্র, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংগঠনের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে তৈরি করা 'সংখ্যালঘু (ধর্মীয় ও জাতিগত) ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে তৈরি হয় প্রতিবেদন-২০১৭। যা সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ২০১৭ সালে অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার সংখ্যা আনুমানিক ৩০ হাজার। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশি। বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ৮২ জন। একই সময়ে আরও ২২টি রহস্যজনক মৃত্যু ও লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা হত্যাকান্ড বলে প্রতীয়মান হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন সহিংস হামলা ও শারীরিক নির্যাতনে আহত ও জখম হয়েছেন ১৮ জন, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ৪৪টি। এদের মধ্যে চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৪৭১টি। ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি (শ্মশান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ) দখলের ঘটনা ঘটেছে ১১৪টি। দখল ও উচ্ছেদের তৎপরতা ১২০টি। প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে কমপক্ষে ২২টি।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিউবার্ড গোমেজ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কারা নির্যাতন করেছে, তার তালিকা আমাদের কাছে আছে। যদি ওইসব ব্যক্তিকে সরকারি দল নমিনেশন দেয়, তাহলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্বাচন বর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবো কি-না, তা নিয়েও আমরা সন্দিহান। যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এই নির্বাচনে ভোট না দিতে পারে, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন এলে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল ফায়দা হাসিল করতে চায়। সবচেয়ে আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে এসব ঘটনার কোন বিচার হয় না। সব দলই সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয় না। আমরা আর কোন রাজনৈতিক দলের ব্যবহার হতে চাই না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ