ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আপন জুয়েলার্সের দুই মালিক মুক্তি পাচ্ছেন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মুদ্রাপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা পাঁচ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ভাইকে দুই ভাইকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রয়েছে আপিল বিভাগে। ফলে আপন গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের কারামুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। তবে আরও দুই মামলা থাকায় এই মুহূর্তে দিলদার আহমেদ সেলিম মুক্তি পাচ্ছেন না।
গতকাল সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ জামিন বহালের এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে সরকারের করা পৃথক তিনটি লিভ টু আপিল খারিজ করেন আদালত।
গত ২১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ২ জানুয়ারি পর্যন্ত হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেছিলেন। পরে গত ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগ আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের মেয়াদ ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ান আপিল বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার এ ব্যাপারে শুনানি হলে আদালত জামিন বহাল রাখেন।
আদালতে আপন জুয়েলার্সের মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
গত ১৪ ডিসেম্বর তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের জামিন হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন দেন। এর আগে ২২ নবেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের কেন জামিন দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী গত মে মাসে দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদকে গ্রেফতার করে। সাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের অবৈধ লেনদেনের তদন্ত শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দারা।
গত ১২ আগস্ট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দিলদার আহমেদ ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি। এসব মামলায় দিলদার আহমেদের দুই ভাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তবে জামিনের সময়সীমা শেষ  হওয়ার পর তারা নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে তিন জনই গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার মহানগর আদালতে ভিন্ন ভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে দিলদার আহমেদ ও তার ভাইয়েরা হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আদেশের পর আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, একটি সোনার দোকানকে কেন্দ্র করে শুল্ক আইনে নোটিশ দেয়া হয়েছিল, সেখানে চোরাচালানের অভিযোগের কথাও বলা ছিল। সেই নোটিশ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মামলা করেছে। কিন্তু এটা অর্থ পাচার আইনের বিষয়ই নয়। ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ