ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে

খুলনা অফিস : রাজপথের সাহসী নেতৃত্বকে সামনে রেখে নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রস্তত করতে উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। এলক্ষ্যে বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে ধারাবাহিক কর্মী সভার মাধ্যমে আসবে সুর্নিদিষ্ট দিক নির্দেশনা। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চ্যালেঞ্জকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনে গুরুত্ব দেবে দলটি। সোমবার দুপুর ১২টায় কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি, সম্পাদক ও উপদেষ্টামন্ডলীর এক জরুরী সভায় এসব বিষয়সহ সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মীর কায়সেদ আলী, শেখ খায়রুজ্জামান খোকা, সিরাজুল ইসলাম, স ম আব্দুর রহমান, রেহানা আক্তার, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ইসলাম প্রমুখ।
সভা থেকে সাধারণ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে খুলনায় শাসক দলীয় ক্যাডারদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি, সহিংস ও অসহিষ্ণু হয়ে ওঠা, প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দেয়া, ভাঙচুর-লুটপাট-তান্ডবলীলা চালানো, গুলী ছুড়ে ও বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টির ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের ফলাফল ছিনতাই, শিশু ফাউন্ডেশন নির্বাচনের ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ার আশংকায় নবনির্মিত জেলা স্টেডিয়ামে নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক তান্ডবলীলা চালানো এবং সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রেজিষ্ট্রার্ড গ্রাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ কেন্দ্রে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের অস্ত্র উঁচিয়ে হামলার ঘটনার উল্লেখ করে সভা থেকে বলা হয়, প্রতিটি ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও আজ অবধি একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীও গ্রেফতার হয়নি। উদ্ধার হয়নি তান্ডবের কাজে ব্যবহৃত কোন অস্ত্র। শাসক দলীয় সন্ত্রাসী তান্ডবে আপামর নগরবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে সভা থেকে দাবি করা হয়।
সভা থেকে ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের চার বছর পূর্তিতে গণতন্ত্রের কলো দিবসে নগর বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, ১৪ নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত এবং ৫ জনকে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় বলা হয়, পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি লাভের পর বিএনপি এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। কর্মসূচিতে আসা মিছিলকারীদের বিনা কারণে লাঠি উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শ্লোগান না দেয়ার হুমকি এবং সর্বশেষ শ্লোগান দেয়ার অভিযোগে লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের গুরুতর আহত করার সাথে জড়িত অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একদিকে পুলিশী হামলায় বিএনপির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পন্ড করার অপতৎপরতা, অন্যদিকে বিশেষ পুলিশী নিরাপত্তা দিয়ে তথাকথিত গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালনের নামে শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারীদের মিছিল করার সুযোগ দেয়ার নিন্দা জানিয়ে এসব অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতি আহবান জানানো হয়।
সভা থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনের টুটপাড়াস্থ বাসভবনে রোববার রাতে পুলিশের হানা, ঘরে ঘরে তল্লাশী এবং কামালকে না পেয়ে তাকে যেখানে যে অবস্থায় পাওয়া যাবে সেখানেই গুলী করে মেরে ফেলা হবে বলে তার মাকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ঘটনার পর থেকে কামালের পরিবার চরম আতংকে রয়েছে এবং উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। নগর বিএনপির সভা থেকে কামালের বাড়িতে কারা গিয়েছিল, কি উদ্দেশ্যে গিয়েছিল- তা খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কমিশনারের প্রতি আহবান জানানো হয়।

আর্কাইভ