ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকদের দাবি মেনে নিতে আদর্শ শিক্ষক পরিষদ ফেডারেশনের আহ্বান

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক পরিষদ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের ন্যায় ও যুক্তিযুক্ত দাবি মেনে নিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ জাতীয়করণের দাবিতে বিগত ৭ দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট করছে। কিন্তু সরকার বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তারা এই পরিস্থিতিতে আমরণ অনশনে যাচ্ছে। অধ্যাপক ফজলুল করীম বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে জানা যায়, বিগত ৩৩ বছর ধরে ৫৪৭৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ সরকারি বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যারা পাচ্ছে তাও আবার তিন মাস পরপর সামান্য টাকা পাচ্ছেন। এটি যেন এক করুনার দান। সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেছে অথচ এবতেদায়ী মাদরাসার বাইরে রেখেছে, যা অমানবিক এবং বৈষম্যমূলক।
তিনি সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ১৯৮৪ সালের ৭৮ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ সরকারের সকল নিয়ম-নীতি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। অথচ তাদের সরকারি কোন বেতন-ভাতা নেই। এবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় সরকারি সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তাদের কার্যক্রম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই কোনভাবে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে তাদের আলাদা করা ঠিক নয়।
অধ্যাপক ফজলুল করিম আরো বলেন, ইতিপূর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত শিক্ষকগণ তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য অবস্থান ধর্মঘটসহ আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। কারণ শিক্ষকরাই আগামী দিনের সুনাগরিক তৈরি করে থাকেন। সতরাং দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য তাদেরকে আর যাতে রাস্তায় নামতে না হয় সে জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের সব সময় খেয়াল রাখা উচিত।
তিনি আরো বলেন যে, শিক্ষকগণ আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর। তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাই তাদের বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তাদেরকে সমাজের অন্যান্য শিক্ষকদের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অধ্যাপক ফজলুল করীম উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ