ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যৌতুক দিতে না পেরে স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত অসহায় আনজেলা

আব্দস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ): জীবন যুদ্ধে পাড়ি দিয়ে ভেঙ্গে গেছে আনজেলার সংসার। সংসার জীবনে মানুষের অনেক স্বপ্ন থাকে। তেমনি স্বপ্ন আনজেলারও ছিল। আজ সমাজ কতোটা অধ:পতনে চলে গেছে তার বাস্তব দৃষ্টান্ত আনজেলার জীবন লক্ষ্য করলে দেখা যায়। স্বামীর চাহিদা এক লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পেরে নির্যাতন করে শশুর বাড়ী থেকে বিতাড়িত হয়। আদালতে মামলা করেও স্বামীর সংসার করতে পারছেনা আনজেলা। মামলা সুত্রে জানা যায়, নির্যাতিত অসহায় আনজেলা খাতুন (২৫) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা সদর ইউনিয়নের মুলকান্দি গ্রামের ওসমান দেওয়ানের মেয়ে । বাবার সংসারে খুব হাসি খুশি ভাবে জীবন কাটতো আনজেলার। তাই বাবার সংসার থেকেই ১১/০৬/২০০৯ ইং তারিখে যথারীতি ইজাব কবুলের মাধ্যমে রেজিঃ কাবিন মুলে টাংগাইল জেলার ভুয়াপুর থানার মেঘার পটল গ্রামের মৃত নবজেস আলীর ছেলে ছাইফুল ইসলাম (৩০) এর সাথে তার বিবাহ হয়। বিবাহ কালিন সময়ে স্বামীর যৌতুকের দাবি সহ অন্যান্য দাবি পুরন করে আনজেলার পরিবার। বিয়ের কিছু দিন পার হতে না হতেই তার জীবনে অশান্তি নেমে আসে। অসহায় আনজেলা খাতুন জানান, বিবাহ অন্তে স্বামীর সাথে ঘর সংসার করাবস্থায় স্বামীর ঔরষে এবং আমার গর্ভে ১টি পুত্র সন্তান (ইয়াছিন) জন্ম হয়। সন্তানের বর্তমান  বয়স ২ বছর। এমন অবস্থায় আবারও গর্ভবতী হই। এমতাবস্থায় আমার স্বামী সাইফুল ইসলাম, ভাসুর জহের আলী, শাশুড়ী আসমা বেগম আমার উপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার স্বামী সাইফুল ইসলাম ব্যবসায়ের কথা বলে আমাকে আমার বাবার নিকট থেকে এক লক্ষ টাকা যৌতুক আনতে বলে এবং সেই সাথে আমাকে বাড়ীর সবাই অত্যাচার করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। বিতাড়িত হইয়া বাবার সংসারে আসার পর ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে একটি কন্যা সন্তান (শারমিন) জন্ম হয়। এখন আমি স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে দুই শিশু সন্তান নিয়ে কিভাবে বেঁচে আছি? এটাই কি জীবন। আরো অনেক দুঃখ কষ্ট ও নির্যাতনের কথা সাংবাদিকদের সামনে বলে কান্নায় ফেটে পড়ে আনজেলা খাতুন। তিনি আরো বলেন কি অন্যায় করেছি আমি? কি দোষ ছিল আমার দুই অবুঝ শিশু সন্তানের? তাই আপনাদের মাধ্যমে সরকারের নিকট দাবি এর উপযুক্ত দৃষ্টান্ত মুলক বিচার চাই। যা দেখে কেউ যেন এমন অমানবিব অত্যাচার নির্যাতন করতে সাহস না পায়। এ ব্যাপারে ২২/১১/২০১৭ ইং তারিখে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিশেষ আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ