ঢাকা, মঙ্গলবার 9 January 2018, ২৬ পৌষ ১৪২৪, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তর জনপদ : জবুথবু জনজীবন

সৈয়দপুর (নীলফামারী) : সৈয়দপুরে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন

নীলফামারী সংবাদদাতা: শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে নীলফামারীতে।  বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ঘন কুয়াশার সাথে উত্তরের হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতে জবুথুবু হয়ে পড়েছে এখানকার লোকজন। আর এই কনকনে শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষজন কাজে যেতে না পেরে নিদারুন কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।  শৈত্য প্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারনে সূর্য্যরে মুখ দেখা যায়নি। দিনের বেলাতেও কুয়াশার কারণে ভারী যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। রাস্তা-ঘাটে লোকজন চলাচল কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাহিরে বের হচ্ছে না। গ্রামে ও হাট-বাজার গুলোতে দেখা গেছে লোকজন খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান ও ট্রেন চলাচলের সিডিউলের বিপর্যয় ঘটছে।  শীত নিবারন করতে গরম কাপড় সংগ্রহে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পৌরসভা মাঠের  পুরানো কাপড়ের বাজারে ভীড় করছেন। এদিকে শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
রাজারহাটে গত কয়েকদিনের কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও দিনমজুর মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। কাঁথা কম্বল গায়ে জড়িয়ে বিছানায় দেহ নিতিয়ে রয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছে অতিকষ্টে। তারা গরম কাপড়ের অভাবে জড়োসড়ো হয়ে রয়েছে। শৈত প্রবাহ এবং হিমেল হাওয়ায় জীবন আরো দূর্বিষহ হয়ে উঠে। দিনের মধ্যভাগে মাঝে মধ্যে রোদেও ঝিলিক দেখা দিলেও বিকালের দিকে শৈত্য প্রবাহে চারিদিক ঢেকে যায়। তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলের ছিন্নমুল অসহায় পরিবারগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ।   প্রচন্ড ঠান্ডা পড়ায় কমদামী ও গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে মানুষের ভিড় পড়েছে। কয়েকদিন আগে ওই সব দোকান মালিকরা গালে হাত দিয়ে বসে ছিল। হাঁড় কাপানো ঠান্ডা পরায় তাদেও মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। প্রচন্ড ঠান্ডা পরায় অফিসগুলোতে তেমন লোকজনের ভিড় ছিল না। অনেকে ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বাড়ীতে বা রাস্তার মোড়ে খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডা প্রকট আকার ধারণ করে। এদিকে শুধু মানুষ নয় গবাদী পশু গরু-ছাগল-ভেড়ার গায়ে উঠেছে পাটের চট ও গরম কাপড়।
সৈয়দপুর (নীলফামারী)
মুদ্যুশৈত্য প্রবাহে ও কনকনে হিমেল বাতাসে নীলফামারীর সৈয়দপুরে শীত জেঁকে বসেছে। এর প্রভাবে বিমান, ট্রেন  ও বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। গত ক’দিন ধরেই হিমেল বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা জবুথবু হয়ে পড়েছে। গোটা উপজেলায় দেখা দিয়েছে শীত জনিত রোগ বালাই। দিনে সূর্য না উঠায় শীতের প্রকোপ কমছে না। সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে গোটা জনপদ। গরম কাপড়ের অভাবে শীতে কষ্ট ভোগ করছে দুস্থ ও অভাবী কর্মজীবি মানুষ। দিন মজুর মানুষ কাজ করতে না পারায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শীতের দাপটে সন্ধ্যার পর হাট-বাজারসহ শহরের কর্মচাঞ্চল্য এলাকায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন নি¤œবিত্তরা। শীতের সাথে কনকনে বাতাসের  কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হচ্ছে না। শীতের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থাকছে ক্রেতা শূন্য হয়ে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন কে সড়ক পথে চলাচল করতে হচেছ।
মাধবদী (নরসিংদী)
মাধবদীতে পৌষের শীতের মৌসুমে কিছুটা গরমের পর হঠাৎ করে হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা প্রচন্ড আকার ধারণ করেছে। শৈত প্রবাহ, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে মাধবদীর মানুষ। প্রকৃতিই বলে দিচ্ছে বেশ জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে  শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দুপুরের পুর্বে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। হাসপাতাল, প্রাইভেট ক্লিনিক ও সাধারণ চিকিৎসালয় গুলিতে প্রতিদিনই বাড়ছে জ্বর, ঠান্ডা, ট্রন্সিলাইটিজ, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর ভীড়। অপর দিকে নি¤œ আয়ের সুবিধা বঞ্চিত মানুষ তাদের শিশু সন্তান এবং বয়:বৃদ্ধদের জন্য প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ও সামর্থ্যহীনরা ঘরে বসেই দিন কাটাতে হচ্ছে। হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাধবদীর সাধারণ ব্যবসায়ীরাও। বিশেষ করে অতিরিক্ত হিমেল হাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনক হারে।
ভাঙ্গুড়া(পাবনা)
মৃদু শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাসের দাপটে খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। বাড়ির বাইরে রাস্তায়  খড়কুটো জ্বালিয়ে মানুষ শীত নিবারণ করছে। শীতে শিশু-বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। ঠান্ডা,কাশিসহ নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। দিনের বেলায় অধিকাংশ সময়ই ঘন কুয়াশায় চারদিকে আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় সড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।  এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর শহরের ফুটপাতে শীতের কাপড়ের ব্যবসা জমে উঠেছে।
চকরিয়া
চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটে সম্প্রতি হতদরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে মালুমঘাট সমাজকল্যাণ ফোরাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান জননেতা আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ম্যানগ্রোভ এসেটস লিঃ চকরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিশিষ্ট রাজনীতিক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। এসময় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাস্টার রফিক আহমেদ, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সংগঠনের সভাপতি ফরিদুল আলম, অর্থ সম্পাদক জিহাদুল ইসলামসহ স্থানীয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ শত-শত শীতার্ত মানুষের মাঝে ঠা-া নিবারণি শীতবস্ত্র কম্বল তুলে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ