ঢাকা, বুধবার 10 January 2018, ২৭ পৌষ ১৪২৪, ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিআইজি মিজানকে নিয়ে বিব্রত পুলিশের মুখে কুলুপ ॥ ডিএমপি থেকে প্রত্যাহার

# পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
# ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয় -সহকর্মীবৃন্দ
তোফাজ্জল হোসেন কামাল : এক নারীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানকে নিয়ে বিব্রতবোধ করছে পুলিশ প্রশাসন। তাকে নিয়ে কোন প্রকার তথ্য প্রদান কিংবা বক্তব্য দিতে রাজি হচ্ছেন না ঊর্ধ্বতন কেউই। পুলিশের ভোকাল পয়েন্টের কর্তারাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। মিজানের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ইতিউতি করে বিব্রতবোধের প্রকাশ করছেন নিজ নিজ অবয়বে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে ক্রীড়া অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের আগেই ডিআইজি মিজানের খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
অপরদিকে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গতকাল প্রত্যাহারের খবর পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার কর্মস্থলে ছিলেন গরহাজির। নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন তিনি। তার সাথে যোগাযোগের সকল মাধ্যমই এখন সহকর্মীদের ভাষায় ‘সুইচড অফ’। এমনকি পুলিশ সপ্তাহের নানা অনুষ্ঠান চললেও তার কোন একটিতেও মিজানকে দেখেননি তার কোন সহকর্মী ।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তার বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এটার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমরা তাকে ডিএমপি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করেছি।” পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মিজানের বিষয়ে তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিজানের বিষয়ে পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে কিনা- প্রশ্ন করা হলে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “কেন হবে না।”
এর আগে সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের ব্যত্যয় যে কেউ ঘটাক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
মিজানের বিরুদ্ধে ঢাকার পান্থপথের বাসিন্দা এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করে সংসারও করছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ওই নারীর অভিযোগ, প্রায় চার মাস সংসার করার পর ফেইসবুকে স্বামী পরিচয় দিয়ে মিজানের একটি ছবি তোলার পর মিজান তাকে নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন। দুটি ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে জামিনে তিনি বেরিয়ে  আসেন।
তবে মিজান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওই নারী একজন প্রতারক।
‘ব্যবস্থা নেবে’ মন্ত্রণালয়
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তারই এক সহকর্মী। পুলিশের ওই ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেবে। এর বেশি কোনো তথ্য তিনি দেননি।
ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, মিজানের অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যত বড় কর্মকর্তাই হোন না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি যদি এমন গর্হিত কাজ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ সপ্তাহে গরহাজির
ঘরে স্ত্রী রেখে জোর করে আরেক নারীকে বিয়ের অভিযোগ ওঠার পর আলোচনায় থাকা ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানকে দেখা যায়নি পুলিশ সপ্তাহের কোন অনুষ্ঠানে। সোমবার পুলিশ সপ্তাহ শুরু হলে রাজারবাগে সাংবাদিকসহ অনেকেই খুঁজতে থাকেন এই ডিআইজিকে। তবে রাজারবাগের অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊধ্বর্তন সব কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি অতিরিক্ত কমিশনার মিজানকে। তাকে দেখেছেন, এমন কোনো তথ্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দিতে পারেননি।
রাজারবাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বেলা আড়াইটার দিকে মিজানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি রাজারবাগে আছি।” কোথায় আছেন- জানতে চাইলে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগে পুলিশের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানেও মিজানকে দেখা যায়নি বলে জানান ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন এমন একাধিকজন । সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলনেও তাকে দেখা যায়নি। এরপর রাতে একই অনুষ্ঠানস্থলে পৃথক এক অনুষ্ঠানেও তার দেখা মেলেনি। ওই অনুষ্ঠানটি ছিল ৮ জন মন্ত্রীর সাথে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ