ঢাকা, বুধবার 10 January 2018, ২৭ পৌষ ১৪২৪, ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাপমাত্রা বাড়লেও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

প্রচ- শীতে কাঁপছে দেশ। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে কতিপয় নর-নারী কুড়ানো কাগজ ও খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ লাগিয়ে শীত দূর করার চেষ্টা। ছবিটি গতকাল মিরপুর এলাকা থেকে তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীসহ সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের ৭০ বছরের ইতিহাসে গত সোমবার রংপুর বিভগের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। যা গতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, রাজধানীসহ সারাদেশের কোথাও কোথও এখনও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২/৩দিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ কেটে যেতে পারে। তবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ আরও করেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামলে তীব্র শীত অনুভূত হয়। যাকে আবহাওয়ার ভাষায় শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। শীতের তীব্রতাকে বুঝাতে শৈত্যপ্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি ও এর নীচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অভিহিত করা হয়।
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার বিষয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ওই অঞ্চলের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা অবস্থিত। সেখান থেকে বায়ু সমতল ভূমিতে প্রবাহিত হয় বলে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় ওই অঞ্চলে সবসময় বেশি শীত অনুভূত হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর গতকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্য প্রবাহ এবং শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা বুধবার সকাল পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি আকারে অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দলমত নির্বিশেষে সবাইকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে শৈত্য প্রবাহের মধ্যে শীতার্তদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০ কর্মকর্তাকে শীতপ্রবণ ২০ জেলায় পাঠিয়েছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, চলমান শৈত্য প্রবাহে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, যশোর, ঝিনাইদহ, পাবনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।
এসব জেলায় শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করবেন, কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণ নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়কে শৈত্য প্রবাহের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
শীত না কমা পর্যন্ত এসব কর্মকর্তারা ওই ২০ জেলায় থাকবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সোমবার রাতে অনেকে চলে গেছেন। অনেকে গতকাল (মঙ্গলবার) রাস্তায় আছেন। গতকাল রাতে ত্রাণসচিব উত্তরবঙ্গে যাবেন। আমি চাঁদপুরে গিয়ে কম্বল বিতরণ করব।
সবাইকে শীতার্ত মানুষের পাশ দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে মায়া বলেন, আগে দেখা যেত, অনেক প্রতিষ্ঠান সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ত, বিত্তবানেরো ঝাঁপিয়ে পড়ত, এবার কিন্তু এই লক্ষণটা দেখি না। আমি বিত্তবানদের অনুরোধ করব অতীতে যেভাবে আপনারা সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই ঢাকায় বসে টেলিভিশনে চেহারা না দেখিয়ে চলুন শতার্তদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব শাহ কামাল ছাড়াও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ