ঢাকা, বুধবার 10 January 2018, ২৭ পৌষ ১৪২৪, ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নগরীর আবাসন ও পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে -সেলিম উদ্দিন

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কাফরুলের সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন -সংগ্রাম

আসন্ন ডিএনসিসি নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহম্মদ সেলিম উদ্দিন পুরোদমে নির্বাচনী কর্মকান্ড, গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে ধারাবাহিকতায় তিনি গতকাল মঙ্গলবার নগরীর ভাটারায় মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। নির্বাচিত হলে তিনি ডিএনসিসির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং উন্নত বিশ্বের নগরজীবনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত, সর্বাধুনিক জীবন উপকরণ সমৃদ্ধ, জনবান্ধব ও দূষণমুক্ত নগরীতে পরিণত করার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউথ সোসাইটির উপদেষ্টা নাজিম উদ্দীন মোল্লা, প্রবীন পরিচালক এ কে মজুমদার, সহকারী পরিচালক এ কে বাশার খান, ডা. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম, মুন্সী আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দীন, মো. আব্দুল হালিম, মেহেদী হাসান, এইচ এম সোহেল, তরিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও নিয়াজ মোর্শেদ প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ৩৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রাথী মাওলানা আব্দুল কাসেম এবং সমাজসেবী ও ৪০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।
মতবিনিময় সভায় মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত ডিএনসিসির আবাসন সমস্যাও বেশ প্রকট। নিয়ন্ত্রণহীন বাড়ি ভাড়াও নগর জীবনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ডিএনসিসির ৬০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী অস্থায়ী আবাসনে বসবাস করেন। এমনকি নগরীর ৪০ শতাংশ মানুষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বস্তিতে বসবাস। কিছু সংখ্যক মানুষের আবার বস্তিতেও স্থান হয় না বরং তারা খোলা আকাশের নীচে রাস্তাঘাটে মানবেতর জীবন যাপন করেন। বর্ষা মওসুমে এসব ভাগ্যাহত বনি আদম বৈরি প্রাকৃতিক অবস্থার সম্মুখীন হন। আবার শীতকালে তাদেরকে তীব্র শীতের কবলে পড়তে হয়। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে এবং শীতবস্ত্রের অপ্রতুলতার কারণেই অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে। যা কারো কাম্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে অনুমোদিত বাসস্থান ও তার সরবরাহ মোট প্রয়োজনের ১ শতাংশের বেশি নয়। তাই নগরীর আবাসন সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। আর  সে লক্ষ্যে শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য মানসম্মত এবং স্বল্প ভাড়ার আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার। এমনকি একান্ত মানবিক কারণে ছিন্নমূল ও ভাসমান লোকদের পুনর্বাসন করাও খুবই জরুরি। তিনি নির্বাচিত হলে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে নগরীর আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণহীন বাড়িভাড়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করবেন বলে জোরালো অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনা এবং রাস্তায় যানবাহনের ধীরগতিও নগরবাসীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে রাস্তায় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন যানবাহন। ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহন খাতে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অতীতে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।
 সেলিম উদ্দিন বলেন, নেতিবাচক রাজনীতি ও সদিচ্ছার অভাবেই পরিবহন খাতে কোন উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখেনি। মূলত নগর জীবনে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই নগরীর পরিবহন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন। নগরবাসী তাকে নির্বাচিত করলে গণপরিবহনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সকল প্রকার অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ ও পরিবহণ খাতকে অধুনিকীকরণসহ এ ক্ষেত্রে সকল প্রকার বাধা-প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি সকলকে আশ্বাস দেন।
৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আবুল কাসেম বলেন, অতীতে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের কথা বলে জনগণের কাছে ভোট নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর তারা গণমানুষের কল্যাণে খুবই কমই কাজ করেছে। ওয়ার্ডবাসী তাকে নির্বাচিত করলে মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
৪০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উন্নয়নের কথা বলে অতীতে জনগণের সাথে অনেক প্রতারণা করা হয়েছে। কিন্তু জনগণ তার ওপর আস্থা রাখলে তিনি সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবায় কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ