ঢাকা, বুধবার 10 January 2018, ২৭ পৌষ ১৪২৪, ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এবছর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকবে উইন্ডোজ ট্যাবলেট

মারিফুল হাসান : যদি সাধারণ ট্যাবলেটের কথা বলা হয়, তাহলে বলতে হবে, বর্তমান সময়টা ট্যাবলেটের জন্য ভালো যাচ্ছে না। আর যদি উইন্ডোজ-চালিত ট্যাবলেটের কথা বলা হয়, তাহলে বলতেই হয়, উইন্ডোজ-চালিত ট্যাবলেট বর্তমান বাজার দখলে রেখেছে।
কারণ, আইপ্যাড বা অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের সঙ্গে ব্যবহারকারীরা বেশ খানিকটা সময় পার করেছে। তা ছাড়া অপারেটিং সিস্টেম যে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে, তা উইন্ডোজ-চালিত ট্যাবলেটের বহুলতা দেখে খুব সহজেই বোঝা যায়। যার প্রমাণ পাওয়া যাবে ব্যবহারকারীদের মাঝে মাইক্রোসফটের সারফেস প্রোর গ্রহণযোগ্যতা দেখে।
তবে উইন্ডোজ-চালিত ট্যাবলেট এমন সফলতা পেয়েছে অল্প কয়েক বছরে।
এই ট্যাবলেটগুলোর মধ্যে বেশকিছু ট্যাবলেটকে ‘একের ভিতর দুই’ ল্যাপটপ বলা হয়ে থাকে। কারণ ট্যাবলেট ও ল্যাপটপ উভয় অবস্থাতেই ব্যবহার করা যায়। উইন্ডোজ-চালিত ট্যাবলেটের আকর্ষণীয় দিক হলো এর আকার ও বহনযোগ্যতা। তা ছাড়া খুব সহজেই উইন্ডোজ স্টোরের পাশাপাশি ‘এক্স৮৬’ ও ‘এক৬৪’ সফটওয়্যার পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যবহার করা যাবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পছন্দের শীর্ষে থাকবে, সে রকম পাঁচটি উইন্ডোজ-চালিত ট্যাবলেটের তথ্য রয়েছে এতে।
মাইক্রোসফট সারফেস প্রো
সারফেস প্রো মূলত মাইক্রোসফটের পঞ্চম কিস্তির উইন্ডোজ ট্যাবলেট। এর আগের কিস্তি ছিল সারফেস প্রো ৪। বলা যেতে পারে, আগের ঘাটতি পূরণ করে সারফেস প্রো উইন্ডোজ ট্যাবলেটের সেরা হয়ে উঠছে। কারণ ব্যাটারির ক্ষমতা আগের চেয়ে ৩২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর প্রসেসর ‘ক্যাবি লেক’-এ উন্নীত করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে সারফেস পেন আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। তবে সারফেস পেনের কর্মক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এটির চাপ সংবেদনশীলতা ৪ হাজার ৯৬ ধাপের।
এক নজরে
সিপিইউ: ২.৫ গিগাহার্টজ কোর আই৭-৭৬৬০ইউ
গ্রাফিকস: ইন্টেল আইরিশ প্লাস গ্রাফিকস ৬৪০
র্যা ম: ১৬ গিগাবাইট
তথ্য ধারণক্ষমতা: ৫১২ গিগাবাইট
ক্যামেরা: সামনে ও পেছনে যথাক্রমে ৫ ও ৮ মেগাবাইট
এসার সুইচ ৩
এসার সুইচ ৩ এমন সময় বাজারে এসেছে, যখন উইন্ডোজ ট্যাবলেটগুলো একই সঙ্গে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট উভয় অবস্থাতেই ব্যবহার করা যায়। যাঁরা সারফেস প্রোর মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উইন্ডোজ ট্যাবলেট চান না, তাঁদের জন্য এসার সুইচ ৩ বেশ কাজের। কারণ সবদিক থেকে বিবেচনা করলে এটির কার্যক্ষমতা বেশ ভালো। বলা হয়ে থাকে এটি সারফেস প্রোর অর্ধেক দামের, কিন্তু ট্যাবলেটটির ক্ষমতার অর্ধেক নয়। ট্যাবলেটটির গুণগত মান বেশ ভালো। একটি চাপ সংবেদনশীল পেনের সঙ্গে এটি পরিপূর্ণ হবে।
এক নজরে
সিপিইউ: ১.১ গিগাহার্টজ ইন্টেল পেনটিয়াম এন৪২০০
গ্রাফিকস: ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৫০৫
র্যা ম: ৪ গিগাবাইট
তথ্য ধারণক্ষমতা: ৬৪ গিগাবাইট
ক্যামেরা: সামনে ও পেছনে যথাক্রমে ২ ও ৫ মেগাবাইট।
স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাবপ্রো এস
১২ ইঞ্চির এই ট্যাবলেট যেকোনো উইন্ডোজ ট্যাবলেটকে টক্কর দিতে পারে। কারণ অন্যান্য উইন্ডোজ ট্যাবলেটের চেয়ে এটি বেশ পাতলা এবং নকশাও বেশ ভালো। ট্যাবলেটটির রয়েছে অসাধারণ অ্যামোলেড পর্দা। আর রয়েছে জোরালো দুটি স্পিকার। তবে এর কি-বোর্ড ব্যবহার কিছুটা বিরক্তির কারণ হতে পারে। এর বাইরে গেম ও বিভিন্ন মিডিয়া সুবিধা উপভোগ করার জন্য ট্যাবলেটটি অসাধারণ। এ জন্যই একে আলটিমেট উইন্ডোজ ১০ মিডিয়া ট্যাবলেট বলা হয়ে থাকে। তবে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই পাওয়া যাবে।
এক নজরে
সিপিইউ: ৯০০ মেগাহার্টজ ইন্টেল কোর এম৩-৬ওয়াই৩০
গ্রাফিকস: ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৫১৫
র্যা ম: ৪ গিগাবাইট
তথ্য ধারণক্ষমতা: ১২৮ গিগাবাইট
ক্যামেরা: সামনে ও পেছনে ৫ মেগাবাইট
লেনোভো মিক্স ৫১০
যদি সংযোগ বা ইউএসবি পোর্টকে বিবেচনায় ধরা হয়, তাহলে এটি সারফেস প্রোর যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী।
কারণ মিক্স ৫১০-এ ইউএসবি-সি ও ইউএসবি ৩.০ উভয়ই রয়েছে। ফলে তারজনিত সংযোগে থাকছে না কোনো সমস্যা।
তবে এটির পর্দার রেজল্যুশন ১০৮০ পিক্সেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
ট্যাবলেটের সঙ্গে থাকবে অ্যাকটিভ স্টাইলাস পেন, আলাদা করা যায় এমন অ্যাকিউটাইপ কি-বোর্ড এবং একটি কিকস্ট্যান্ড। মিক্স ৫১০-এর ব্যাটারি মধ্যম পর্যায়ের। ট্যাবলেটটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যাবে।
এক নজরে
সিপিইউ: ২.৭১ ইন্টেল কোর আই৫-৭২০০ইউ
গ্রাফিকস: ইন্টেল এইচডি ৬২০
র্যা ম: ৮ গিগাবাইট
তথ্য ধারণক্ষমতা: ২৫৬ গিগাবাইট
ক্যামেরা: সামনে ও পেছনে যথাক্রমে ২ ও ৫ মেগাবাইট
এইচপি স্পেক্টর এক্স-২
যদি অর্থের দিকে নজর দিতে হয়, তাহলে মাইক্রোসফটের সারফেস প্রোর বিকল্প হতে পারে এটি। কারণ এ ট্যাবলেটটিতে রয়েছে কোর আই৭ প্রসেসর। যদিও কিছুটা ধীরগতির, তবে দামের বিবেচনায় তা খুব বেশি কিছু না।
সবচেয়ে ভালো দিক হলো, ট্যাবলেটটি অ্যাকটিভ স্টাইলাস পেন ও কি-বোর্ডের সঙ্গে পাওয়া যাবে। তবে এটির ব্যাটারি তুলনামূলক কম স্থায়ী। আর ট্র্যাকপ্যাড খুব একটা মসৃণ না।
এক নজরে
সিপিইউ: ইন্টেল কোর আই৭-৭৫৬০ইউ
গ্রাফিকস: ইন্টেল আইরিশ প্লাস গ্রাফিকস ৬৪০
র্যা ম: ৮ গিগাবাইট
তথ্য ধারণক্ষমতা: ৩৬০ গিগাবাইট
ক্যামেরা: সামনে ও পেছনে যথাক্রমে ৫ ও ১৩ মেগাবাইট
সূত্র: টেক রাডার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ