ঢাকা, বুধবার 10 January 2018, ২৭ পৌষ ১৪২৪, ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় প্রচন্ড শীতে বিপর্যস্ত মানবজীবন চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গত কয়েক দিন ধরে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানবজীবন। অধিক শীত ও কুয়াশার কারনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ঘরের লোকজন পড়েছে মহাবিপাকে। তীব্র শীত নিবারনের জন্য প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে নির্ঘুম রাত কাটে গ্রামের বেশির ভাগ দরিদ্র মানুষের। প্রতিবছর শীতের শুরুতেই কম্বল ও গরম কাপড় বিতরন করা হলেও এবছর তেমন একটি শীতবস্ত্র বিতরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দরিদ্র মানুষ কোন কাজের জন্য ঘর থেকে বাহিরে যেতে পারছে না। গত কয়েকদিন ধরে শীতের কারনে হতদরিদ্র মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পুরনো কাপড়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে। গতদু’দিন ধরে কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
কুয়াশার কারনে দিনের অর্ধেক সময় পার হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। শীতের তীব্রতা আর ঘন কুয়াশার কারনে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধদের ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বেড়েই চলছে। অধীক কুয়াশার কারনে জমির বীজ ধান পুড়ে যাচ্ছে। শীতের কারনে সন্ধ্যার পরপরই রাস্তা-ঘাট ও হাট-বাজারে লোকজনের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারনে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ তাদের কর্মস্থলে যেতে পারছে না। অধিক শীতের কারনে ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি-কাশি, হাঁপানি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জুড়ী (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের জুড়ীতে হঠাৎ করে জেঁকে বসেছে কন্কনে শীত। চা বাগান, নদ-নদী, হাওর-বাওর ও পাহাড় বেষ্টিত এ জেলার জুড়ী উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে কন্কনে শীত ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীত দেরিতে এলেও তার প্রকোপ তীব্র আকার ধারন করছে। সন্ধ্যা নামার আগেই জনগণ থেকে জনপদ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। বিশেষ করে অত্রাঞ্চলের পাহাড়ী জনপদে কামড় মেরে বসেছে শীত,  প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মানুষজন এ তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকোপে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে লোকজন খঁড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ গরম কাপড় কিনতে এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার ছাড়াও জুড়ী শহরের কাপড়ের দোকানসহ ফুটপাতগুলোতে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড়। নিম্ন আয়ের মানুষসহ মধ্যবিত্তরাও ফুটপাত থেকে গরম কাপড় কিনে শীত নিবারণের ব্যবস্থা করছেন। দোকানের চাইতে ফুটপাতগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায় ক্রেতাদের ভীড়। সাগরনাল ইউনিয়নের পাতিলাসাঙ্গনের হাজী আব্দুস সাত্তার (১৩০)  গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের আরব আলী (৬০), পলাশ দাস (৫০), জায়ফর নগর ইউনিয়নের কৃষ্ণ দাস (৫৫) ও ছমির আলী (৫৭) বলেন, আগের তুলনায় এখন শীত পড়ে দেরীতে এরপরও হঠাৎ করে বেড়ে গেছে শীত। রাতের বেলায় শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডায় অসহায় হয়ে পড়েন।
অভাব-অনটনের কারণে ঠিক মতো খাবার যোগাড় করতে পারছিনা, ঠান্ডা সামলে উঠবো কি দিয়ে ? এই শীত নিবারণে বিত্তবাণ ও প্রবাসীরা এগিয়ে এলে আমরা উপকৃত হবো। জুড়ী শহরের কামিনীগঞ্জ বাজারের শিশুপার্ক সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাতে শীত নিবারণকারী কাপড় বিক্রি করছেন কাফিল উদ্দিন, আব্দুল আজিজসহ আরো অনেকে। তাঁরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে তেমন একটা বেচাকেনা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ শীত বাড়ায় এখন থেকে গরমের কাপড় বিক্রি বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ