ঢাকা, বুধবার 10 January 2018, ২৭ পৌষ ১৪২৪, ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খানজাহান আলী (র.) বিমান বন্দরের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব

খুলনা অফিস : গত ২০ বছর ধরে ধীর গতিতে চলমান খানজাহান আলী (র.) বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজে চলতি বছর আরেক দফা গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিলো। ইতোমধ্যে বিমান বন্দর এলাকা সম্প্রসারণের জন্য আরও দেড়শ’ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ কাজ চলছে। এই বছরের জুন মাস নাগাদ বিমান বন্দরের দৃশ্যমান মূল নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। যদিও মূল কাজ শুরুর বিষয়ে এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলমহল  থেকে এখন খুব জোরালো কোন ভাষ্য মিলছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাটের সদর ও রামপাল উপজেলার চারটি গ্রামে (ফয়লা, হোগলডাঙ্গা, গোবিন্দপুর ও গোদারডাঙ্গা) চলমান এই প্রকল্প এলাকা নিরাপত্তারক্ষীরা বেষ্টনী দেয়া এলাকাটি পাহারা দিচ্ছে। সেখানে বেশ কিছুকাল আগে মাটি ভরাট করা এলাকার বাইরে নতুন কোন কাজ চলমান নেই। প্রকল্পের পশ্চিম দিকে নতুন অধিগ্রহণ করা এলাকায় বেশ কিছু নতুন টিনের ছোট অবকাঠামো দেখা যায়।
জানা গেছে, অধিগ্রহণ হওয়া জমির বর্ধিত মূল্য পেতে গ্রামবাসী নিজ জমিতে এ ধরনের ঘর নির্মাণ করছেন। এই অবস্থায় প্রকৃতপক্ষে জুন মাস নাগাদ দৃশ্যমান নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা এলাকার মানুষের কাছে বড় একটি জিজ্ঞাসা হয়ে রয়েই গেছে।
মংলা বন্দরকে আরও গতিশীল করতে এবং সুন্দরবনে পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মংলা-মাওয়া-ঢাকা মহাসড়কের পাশে হযরত খানজাহান আলী (র.) বিমান বন্দর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরও আগে রাষ্ট্রপতি লে. জে. (অব.) হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ে ঐ এলাকায় প্রায় ৪২ হেক্টর জমির উপর একটি শর্ট টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং (স্টল) বিমান বন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পরে ঐ প্রকল্প আর সামনে এগোয়নি।
গত প্রায় ২২ বছরে প্রকল্পটির বাস্তবায়িত কার্যক্রমের তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ১৯৯৭ সালে সেখানে মাটি ভরাট কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৪ কোটি টাকায় আংশিক মাটি ভরাট কাজ ছাড়া তখন আর কোন কাজ হয়নি। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আবার মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। কিছ দিনের মধ্যে অর্থাভাবে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমান সরকারের সময়ে বাগেরহাট-খুলনা অঞ্চলে মংলা বন্দরকে ঘিরে ধারাবাহিক উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নতুন করে সামনে আনা হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের পাশাপাশি এই বিমান বন্দর নির্মাণ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ৫ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় এই বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় এবং এ জন্য ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড়ও করা হয়। তবে নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের পর দুই বছর পার হলেও নতুনভাবে জমি অধিগ্রহণে জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে বাধার কারণে খানজাহান আলী (র.) বিমান বন্দর নির্মাণ কাজ গতি পায়নি বলে বিভিন্ন সূূত্রে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ