ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 January 2018, ২৮ পৌষ ১৪২৪, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোগে আক্রান্ত ১০ হাজার মানুষ খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

আবু সাইদ বিশ্বাসঃ সাতক্ষীরা: মাঘের শীতে বাঘও কাপে'। এ প্রবাদটি যেন সাতক্ষীরাতে সত্যি হল। এমন শীত আর আগে কেউ দেখেনি। প্রচন্ড শীতে সাতক্ষীরায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজে ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। সন্ধার পর যেন শহর অনেকটাই ফাকা। সকালে ও শহরে কাউকে দেখা মিলছে না। গতকাল ছিল সাতক্ষীরার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি  সেলসিয়াস। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারির রেকর্ড ভেঙে মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে। সে বছরের তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে এটিই ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এরপর প্রতিবছর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও জেলায় এর নিচে তাপমাত্রা নামার তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নেই।গত ৯ দিনে শুধু সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২৮ জন শিশু। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার লোক শীত জনিত রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে এখানকার চিকিৎসকরা।

শীতের কারণে নানা ধরনের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে মানুষ শীতজনিত রোগ ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। এসব রোগের কারণে ১ জানুয়ারী থেকে গতকাল পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২৮ জন। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে আক্রান্তরা বেশীর ভাগই নবজাতক, শিশু কিশোর ও বৃদ্ধ। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে আরও সহ¯্রাধিক ব্যক্তি। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচেছ। কলারোয়, তালা, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো সহ¯্রাধিক শিশু কিশোর ও বৃদ্ধারা চিকিৎসা নিয়েছে।

ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। আলুর খেতে লেটব্রাইট রোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, আলু ক্ষেত লেটব্রাইট রোগ থেকে রক্ষা করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, শীত পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর একটি হলো সাইবেরিয়ার বাতাস। তবে বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই এই বাতাসে শীতের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু এ সময় সাইবেরিয়ার বাতাসে যে মাত্রার ঠান্ডা থাকে সেটি এ মানুষের কাছে সহনীয় নয়। জেলায় শীতের তীব্রতা এতটাই বেশি যে রাতের বেলায় আকাশ থেকে ঝরছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা। দিনের বেলায়ও কুয়াশার রেশ কাটেনি। এর সঙ্গে উত্তর দিক থেকে আসছে কনকনে ঠান্ডা বাতাস। তাই গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা এখন আগুনের কুন্ডলী। শীতের ছোবল থেকে বাঁচতে দিনরাত সব সময়ই তাঁরা আগুনের কাছে দাঁড়িয়ে নিজেদের রক্ষা করছেন। হাড়–কাঁপানো শীতে এখানকার জীবনযাত্রা এখন অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দরিদ্র, ছিন্নমূল, ভাসমান ও স্বল্প আয়ের মানুষ। সকাল ও বিকালে শহরে সাধারণ মানুষ ও রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কম করছে। লেপ-তোশক ও শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভীড় বেড়ে গেছে।

তবে জেলাতে ছিন্নমুল মানুষের অবস্থা অসহনীয়। লক্ষাধিক ছিন্নমুল মনুষ গরম কাপড়ের অভাবে প্রচন্ড শীত ভোগ করছে। মধ্য রাত থেকে লতা পাতা জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে এখনো শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণে করা হয়নি। ভুক্ত ভোগীদের দাবী শীত নিবারণে গরম কাপড় বিতরণে বিন্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ