ঢাকা, শুক্রবার 12 January 2018, ২৯ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে------ ট্রাম্প

১১ জানুয়ারি, রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ফেডারেল আদালত ব্যবস্থা ‘ভেঙে পড়েছে এবং ন্যায়বিচারের ক্ষমতা হারিয়েছে’। তার দাবি, ড্রিমার অভিবাসী প্রশ্নে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সান ফ্রান্সিসকোর আদালতে রুল জারির পর গত বুধবার কেন্দ্রীয় এই আদালত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা খবরটি জানিয়েছে।

শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান প্রায় ৭ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য রুল জারি করে সান ফ্রান্সিসকোর আদালত। অন্যান্য আদালতে আনা আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রুল কার্যকর থাকবে বলেও জানান বিচারক।

গত বুধবার টুইটারে অভিবাসন সংক্রান্ত এই রুলের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে সবাই দেখলো যে আমাদের আদালত ব্যবস্থার অবস্থা কী। যখন ডিএসিএ-এর মতো কোনও মামলায় বিরোধী পক্ষ সবগুলো আদালতে জয় পায় কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার পর সেই রায় পাল্টে যায়, তখন বোঝা যায় আদালত ব্যবস্থা কতটা ভেঙে পড়েছে এবং ন্যায়বিচারের ক্ষমতা হারিয়েছে।’

ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সান ফ্রান্সিসকো আদালতের বিচারক উইলিয়াম আলসুপের রুলের বিরুদ্ধে আপিল করেনি। সাধারণত ওই আদালতের রুলের বিরুদ্ধে আপিল করতে নাইনথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস এর শরণাপন্ন হতে হয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই রুলের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন যদি সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে তবে তারা জিতে যাবে। গত ডিসেম্বরে মার্কিন সরকারের ডিএসিএ সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশের আদেশ দিয়ে আলসুপের দেওয়া রুলের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে জয় পেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

ড্রিমারসদের বেশিরভাগই হিস্পানিক। তাদের বেশিরভাগই এসেছেন মেক্সিকো ও ল্যাটিন আমেরিকার অন্য দেশগুলো থেকে। ২ লাখেরও বেশি ড্রিমারস ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন,১ লাখ বসবাস করছেন টেক্সাসে। নিউ ইয়র্ক, ইলিনয় এবং ফ্লোরিডায়ও বিপুল সংখ্যক ড্রিমারস এর বসবাস। নির্বাচনি প্রচারণার সময় ড্রিমারসদের বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান-সহ অনেক রাজনীতিক এ বিষয়ে ছাড় দিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘এই তরুণরা মা-বাবা তাদের এখানে নিয়ে এসেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশ চেনে না। তাই তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’ তবে সব আহ্বান উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নিজের অভিবাসীবিদ্বেষী অবস্থানেই অনড় থাকেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার বিচারপতি উইলিয়াম আলসুপের রুলে বলা হয়, যারা এই কর্মসূচির আওতায় আগে কখনও সুরক্ষা পাননি তাদের কাছ থেকে নতুন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চালানোর দরকার নেই। তবে যারা আগে এই কর্মসূচির আওতায় সুরক্ষিত ছিলেন তাদের আবেদন নবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ