ঢাকা, শুক্রবার 12 January 2018, ২৯ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছাতক সিমেন্ট কারখানায় দুর্নীতি ॥ দেখার কেউ নেই 

ছাতক সিমেন্ট কারখানা লিমিটেড

রফিকুল ইসলাম, ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: ছাতক সিমেন্ট কারখানা যেন দূর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত এ কারখানার অভ্যন্তরীণ এসব অনিয়ম-দুর্নীতি যেন দেখার কেউ নেই। এখানে একের পর এক ঘটছে ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা। সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজচক্র ভুয়া কাগজপত্রে প্রায় কোটি টাকার সিমেন্ট উত্তোলন নিয়েও চলছে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় চলছে। জানা যায়, ছাতক সিমেন্ট কারখানা থেকে ভুয়া কাগজপত্রে কোটি টাকার সিমেন্ট উত্তোলনের পর কর্তৃপক্ষের সাথে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৭টি চেক দিয়ে বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে নিষ্পত্তি করেছে সম্পা এন্টারপ্রাইজ ও হানিফ এন্টারপ্রাইজ। এসব প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কারখানার নতুন প্রজেক্টের ডিপিডি আব্দুর রহমান বাদশার মাধ্যমে এ ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে জাল কাগজে ৯২লাখ টাকার সিমেন্ট উত্তোলন করে। কিন্তু সিমেন্ট উত্তোলনে দেয়া ব্যাংকের ক্রেডিট ভাউচার জাল করে এসব সিমেন্ট উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৩ডিসেম্বর ছাতক পূবালী ব্যাংকের দেয়া মাসিক হিসাব বিবরনীতে এ ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনায় কারখানার হিসাব কর্মকর্তা রেজাউল করিম ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে জাল ক্রেডিট ভাউচার দিয়ে কারখানার ৯২লাখ টাকার সিমেন্ট উত্তোলন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, সম্পা ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের নামে ভুয়া ৭টি ভাউচারে ৯২ লাখ টাকা ছাতক পূবালী ব্যাংকে পেমেন্ট দেখানো হলেও এগুলো ছিল জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা। পরে কারখানাও ব্যাংক হিসাবে গরমিলের জন্যে ঘটনার ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংক ঢাকার একটি শাখায় সম্পা ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের দেয়া ২কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ভূঁয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে ধমক দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা পরিশোধের বিষয়টিও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন আব্দুর রহমান বাদশা। জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে কারখানার নতুন বিএমআরই প্রজেক্টের শীর্ষ কর্মকর্তা বাদশাহসহ কারখানার হিসাব বিভগের কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ছাতক সিমেন্ট কারখানার হিসাব কর্মকর্তা আতিকুল ইসলামসহ ৪জনকে শোকজ করা হয়েছে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নেপাল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান। হাতিয়ে নেয়া ৯২লাখ টাকার ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ হয়েছে বলেও দাবি করেন। জানা গেছে, কেপিএম থেকে দূর্নীতির অভিযোগে বদলিকৃত জনৈক কর্মকর্তা কারখানার লুঠপাটের মূলহোতা বলে স্থানীয়রা জানান। এ ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপওয়ের বিভাগীয় প্রধান মাহবুব এলাকে প্রধান করে ২০১৭সালের ডিসেম্বর মাসে ৪সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিসিআইসি। এ তদন্ত টিমের তদন্তে জালিয়াতিসহ লুটপাটের ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে আব্দুর রহমান বাদশার নাম চলে এসেছে। একটি সূত্র জানায়, নতুন প্রজেক্টের ডিপিডি আব্দুর রহমান বাদশা কারখানার বড়ধরনের সবগুলো দূর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বিনা টেন্ডারে মাত্র ৩৫লাখ টাকায় কারখানার পাওয়ার প্ল্যান্ট বিক্রির পাঁয়তারা করেন। পরে এলাকাবাসির প্রতিবাদের মূখে টেন্ডার দিয়ে এটি আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। 

এছাড়া গত ১বছরে কারখানার নামে ভারত থেকে আসা প্রতি মে.টন ১৮শ’ টাকার চুনাপাথর খোলাবাজারে ৫হাজার টাকায় বিক্রি করে কারখানার কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বাদশাসহ একটি সিন্টিকেট। এভাবে  নতুন বিএমআরই প্রজেক্টের উত্তোলিত ১৩কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে ১২কোটি টাকা লাপাত্তা করা হয়েছে বলে সংশি¬ষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। সম্পা এন্টারপ্রাইজ ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের পরিচালক রুবেল মিয়া জানান, সিমেন্টের টাকা নিয়ে কারখানার সাথে তার কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি একণ সমাধান হয়ে গেছে। এব্যাপারে ছাতক সিমেন্ট কারখানার সিবিএ সেক্রেটারী আব্দুল কুদ্দুছ জানান, সম্প্রতি কারখানায় একটি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। বিএমআরই নতুন প্রজেক্টের ১৩কোটি টাকা এ পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এসব টাকার কাজ চলমান রয়েছে। ডিপিডি আব্দুর রহমান বাদশা তার বিরুদ্ধে আনিত লুঠপাট ও জালিয়াতির অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, এব্যাপারে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। ছাতক সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নেপাল কৃষ্ণ হাওলাদার সম্পা এন্টারপ্রাইজ ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের বিষয়টি  কম্প্রোমাইজ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারখানার ৪কর্মকর্তাকে শোকজ করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, বিএমআরই প্রজেক্টের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ