ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টঙ্গীতে তাবলিগ ইজতিমার প্রথম দিনে মুসল্লিদের জুমার নামায আদায়

টঙ্গী তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতিমাস্থলে জুমার নামায আদায় করছে মুসল্লীরা। গতকাল শুক্রবার তোলা ছবি -সংগ্রাম

রেজাউল কবির বাবুল ও গাজী খলিলুর রহমান : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতিমার প্রথম পর্বের প্রথম দিনে গতকাল শুক্রবার লাখো মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামায আদায় করেছেন। নিয়মিত তাবলিগ জামাতের জামাতবন্দী মুসল্লি ছাড়াও ঢাকা-গাজীপুর ও আশপাশ এলাকার কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতিমা ময়দানে জুম্মার নামাযে অংশ নেন।
গতকাল শুক্রবার বিশ্ব ইজতিমার প্রথম পর্বে উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে অংশ নেন। তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি। এদিকে মাওলানা সা’দ ইজতিমা ময়দানে আসছেন না এ খবর মুসল্লিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাওলানা সা’দ ইজতিমা ময়দানে আসা না আসার কোন প্রভাবই ইজতিমা ময়দানে মুসল্লিদের মাঝে দেখা যায়নি।
এবারই প্রথমবারের মতো ইজতিমার আম বয়ান আরবিতে দেয়া হয়। বয়ানের বাংলা তরজর্মা করেন, মাওলানা সালেহ। বাদ জুম্মা বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, বাদ আসর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল বারী ও বাদ মাগরিব বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ রবিউল হক। আগামী রোববার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা আখলাক, ঈমান ও আমলের ওপর বয়ান করবেন বলে ইজতিমা সূত্রে জানা গেছে।
ইজতিমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাযে খুতবা পাঠ শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। নামায শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে। ইমামতি করেন রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। ইজতিমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাযে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতিমাস্থলে হাজির হন। দুপুর ১২টার দিকে ইজতিমার পুরো ময়দান পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন পাটি, চটের বস্তা ও খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাযে শরিক হন।
জুমার নামাযে মুসল্লিদের সাথে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ হাসান রাসেল।
বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতিমার মূল কাজ শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরব্বি আব্দুল মতিন। প্রথম পর্বে দেশের ১৪ জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক ও জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা ইজতিমায় অংশ নিয়েছেন।
ইজতিমা আয়োজ কমিটি সূত্র জানায়, ইজতিমার প্রথম দিনেই অংশ নিয়েছেন প্রায় ৪ হাজার বিদেশী মুসল্লি। তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী এই বিশ্ব ইজতিমায় অংশ নিতে প্রথম দিন শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৭৯টি দেশের ৩ হাজার ৯১৯ জন মুসল্লি ইজতিমা মাঠে পৌঁছেছেন। ইজতিমার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় ইজতিমায় প্রতিদিন ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই পর্বে পরিচালিত হচ্ছে।
বিদেশী মুসল্লিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিদেশী মুসল্লিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা খিত্তার ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরায় বিদেশীদের জন্য ৪টি খিত্তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টঙ্গী থানার অফিসার্স ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, টোকাই, হকার, পকেটমার, ফকির ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। গতকাল ১০/১৫জন ফকিরকে ইজতিমা ময়দান এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রথম পর্বের ইজতিমায় রাজধানী ঢাকাসহ ১৪ জেলার মুসল্লিরা ইজেতেমায় অংশ নিয়েছেন। সকাল থেকেই সড়ক পথ, রেলপথ ও নৌপথসহ সব পথেই টঙ্গীর তুরাগ তীরে ঢল নামে মুসল্লিদের।
এবারে প্রথম দফায় বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের জন্য পুরো ময়দানকে ২৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট খিত্তায় নির্দিষ্ট জেলার মুসল্লিরা অবস্থান নিচ্ছেন।
বিশ্ব ইজতিমা উপলক্ষে প্রথম পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন ঢাকার একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী এবং বগুড়া জেলার বাসিন্দরা। প্রতিটি জেলার জন্য রয়েছে নির্ধারিত স্থান। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব খিত্তায় অবস্থান করবেন।
এ বছর ১৬০ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল চটের সামিয়ানা। বিদেশী মেহমানদের জন্য ইজতিমা ময়দানের উত্তর পশ্চিম কর্ণারে তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস।
এবারের ইজতিমা ময়দানের রয়েছে ১৭টি প্রবেশ পথ। ইজতিমা ময়দানের চারদিকে ১৫টি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। মাঠ জুড়ে রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি।
গাজীপুরে মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং : গাজীপুর জেলা তথ্য অফিসার এসএম রাহাত ও ট্রাফিক বিভাগের এএসপি মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ জানান, ইজতিমা চলাকালীন সময় জয়দেবপুর চান্দনা-চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসুল্লিদের বহনকারী যানবাহনের জন্য টঙ্গীস্থ কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের সামনের রাস্তার উভয় পাশে, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ প্রাঙ্গণ, জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, চান্দনা-চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চান্দনা-চৌরাস্তা ট্রাক স্ট্যান্ড এবং নরসিংদী-কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসুল্লি বহনকারী যানবাহন টঙ্গীস্থ কে-টু নেভী), সিগারেট ফ্যাক্টরী সংলগ্ন খোলা জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইজতিমা চলাকালীন গাজীপুরে যানচলাচল নির্দেশনা : ইজতিমায় আগত মুসুল্লিদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা হতে উত্তবঙ্গ হতে আসা টঙ্গী-ঢাকাগামী যানবাহন চান্দনা-চৌরাস্তা হয়ে কোনাবাড়ি, চন্দ্রা-ত্রিমোড়, বাইমাইল, নবীনগর, আমিনবাজার হয়ে চলাচল করবে। এছাড়া ১১-১৩ জানুয়ারি ও ১৮-২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তুহারা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়ক, স্টেশন রোড ওভার ব্রিজ হতে টঙ্গী রেলগেট ও মন্নু ট্রেক্সটাইল মিল হতে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে মোটরযান ব্যাতিত রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আখেরী মোনাজাতের দিন : আগামী ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাতের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা-চৌরাস্তা হতে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের মাজুখান ব্রিজ হতে স্টেশন রোড ওভার ব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ হতে মন্নু টেক্সটাইল মিলগেট পর্যন্ত সড়কপথ বন্ধ থাকবে বলে জানান গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগ। এরআগে ১৩ জানুয়ারি এবং ২০ জানুয়ারি রাত ১০টা হতে টঙ্গীর নিমতলী রেলক্রসিং, কামারপাড়া ব্রিজ ও ভোগড়া বাইপাস দিয়ে ইজতিমাস্থলের দিকে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে মুসুল্লিদের নিয়ে ইজতিমাস্থলের দিকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শ্যাটল বাস চলাচল করবে। তবে বিকল্প হিসেবে ভোগড়া বাইপাস দিয়ে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা হয়ে এবং বিপরীত দিকে ৩০০ ফুটের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে।
নৌযান চলাচল নির্দেশনা : বিশ্ব ইজতিমা উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কামারপাড়া সেতু থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদীতে সকল প্রকার নৌযান চলাচল ও নোঙ্গর বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে নৌযানসমূহ টঙ্গী সেতুর পূর্ব পাশে এবং কামারপাড়া ব্রিজের উত্তর পাশে নোঙ্গর করতে পারবে। নারায়নগঞ্জ ছাড়াও সদরঘাট থেকে ৬টি ওয়াটার বাস টঙ্গী পর্যন্ত মুসুল্লিদের পরিবহণ করতে পারবে।
এদিকে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল  জানান, এবছর ১৫টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ইজতিমায় আগত মুসুিল্লদের অজু-গোসলের জন্য প্রতিদিন প্রায় চার কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া মুসুল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট ও গোসলখানা স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ইজতিমা এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অশ্লীল পোস্টার অপসারণ এবং হোটেল রেস্তোরায় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মুসুল্লিদের যাতায়তের জন্য তুরাগে ৭টি ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তুরাগে নৌটহল ছাড়াও ডুবুরীদল মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতিমার পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই পর্বে পরিচালিত হবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও ইবাদত বন্দেগী নির্বিঘœ করতে টঙ্গী বিশ্ব ইজতিমা এলাকায় ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা ৮ ভাগে ভাগ হয়ে পাঁচস্তরে মুসল্লিদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশ পথে সন্দেহভাজনদের মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার ও ৪১টি সিসি ক্যামেরা থেকে পুরো ইজতিমাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাদা পোশাকে প্রতি খিত্তায় ৬জন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদেরও ইজতিমা মাঠে প্রবেশে নজরদারি করা হচ্ছে। বিশ্ব ইজতিমা এলাকায় হকার ও ভিক্ষুক মুক্ত রাখা হবে। ইজতিমার শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইজতিমা ময়দানগামী সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের ১৮শ সদস্য দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদাভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, ও ফায়ার সার্ভিসের কন্টোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এমএ মান্নান জানান, ইজতিমায় আগত মুসল্লিদের ইবাদত বন্দেগী নির্বিঘœ করতে ২৬টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ওষুধ ¯েপ্র করা হচ্ছে। ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে ইজতিমা ময়দান থেকে বর্জ অপসারণ, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ও ময়দান এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনী ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে বিদেশী ক্যাম্পে রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. গাউস আল মুনির জানান, ইজতিমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রা বিরতি করবে।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইজতিমা এলাকায় মুসল্লিদের মাঝে পাঁচটি ফিডারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজীপুর সিভিল সার্জন মঞ্জুরুল হক জানান, টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট, অর্থোপেডিক ও ট্রমা, চর্ম-যৌন সার্জারী, অ্যাজমা, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ছাড়াও তাদের তিনটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অফিসসহায়ক ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে ১৪টি অ্যাম্বলেন্স স্ট্যান্ডবাই রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ৪৫টি ফ্রি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব সেবা কেন্দ্র দুই পর্বের ইজতিমায় মুসল্লিদের ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বিশ্ব ইজতিমায় ২ মুসল্লির মৃত্যু : বিশ্ব ইজতিমা শুরুর আগের রাতে কাজী আজিজুল হক (৬৫) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মাগুড়া জেলার শালিখা থানার খরিশপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আজিজুল হক ২৯নং খিত্তায় পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। গতকাল শুক্রবার ফজরের নামাযের পর ইজতিমা ময়দানে তার নামাযে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ পাঠানো হয় তার গ্রামের বাড়িতে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি চাপায় নিহত হন (৩৩) বছর বয়সী আব্দুল মামুন মনা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহত মনাকে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাস্তায় মারা যান তিনি। নিহত মনা ঢাকার আগারগাঁও নিবাসী কেরামত আলীর ছেলে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসল্লি) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতিমায় অংশ নেবেন তারা পরবর্তী বছর ইজতিমায় অংশ নিতে পারবেন না। ২০১৫সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্বইজতিমার পাশাপাশি জেলায় জেলায় আঞ্চলিক ইজতিমাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বছর গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর থেকে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের আম বয়ানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতিমার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজত অনুষ্ঠিত হবে। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় পর্বের ইজতিমা শুরু হবে। ২১ জানুয়ারি রোববার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতিমা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ