ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত গ্রেফতার ৮ হাজার

১২ জানুয়ারি, আল আরাবিয়া : বেকারত্ব দূরীকরণ দাবিতে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের আইনশৃঙ্খলবা বাহিনী। শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল আরাবিয়া এ দাবি করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও কম বলে দাবি করা হয়। এ দিকে বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দিতে ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়, ইরান সরকার গ্রেপ্তারকৃত বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা গোপন রাখার চেষ্টা করছে। তবে দেশটির অনেক সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদরা ব্যাপক হারে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেছেন। ইরান পার্লামেন্টের একজন সদস্য মাহমুদ সাদেকি গত সপ্তাহে ৩৭০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য,দুই জানুয়ারি তেহরানের ডিপুটি গভর্নর তিনদিনে শুধু ৪৫০ জনকে গ্রেফতারের দাবি করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই যুবক বয়সী। তাদের মাঝে কিছু কিশোর বয়সেরও রয়েছে। সূত্র: আল আরাবিয়া

এর আগে ইরানে গত শনিবার(৩০ ডিসেম্বর,২০১৭) সরকারের সমর্থনে বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ মিছিল করেছিল। সরকারের বিরুদ্ধে দুই দিনের বিক্ষোভের পর গত শনিবার(৩০ ডিসেম্বর,২০১৭)সরকার সমর্থকরা তাদের শক্তি প্রদর্শন করল।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, কালো কাপড় পরা সরকারের বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাজধানী তেহরান, দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মাশাদ ও আরো কয়েকটি শহরে জমায়েত হয়েছে। ‘প্রজাবিদ্রোহ’ সমাপ্তির বার্ষিকী উপলক্ষে তারা এই মিছিল বের করে। ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর ওটাই ছিল সবচেয়ে বড়ো ধরনের অস্থিরতা। খবর এএফপি’র।

কাকতলীয়ভাবে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পরপরই পূর্বনির্ধারিত সরকারপন্থীদের এই মিছিলটি হল। বৃহস্পতিবার মাশাদ থেকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমিকভাবে দূর্বল আর্থিক ব্যবস্থার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে। খুব দ্রুত তা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোয়ামে শুক্রবার বিকেলে হাজার হাজার মানুষের মিছিল দেখা যায়। এ সময় মিছিলকারীরা ‘স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক!’ ও ‘রাজবন্দীদের মুক্তি দাও !’ বলে স্লোগান দেয়। এমনকি মিছিলকারীরা সাবেক রাজতন্ত্রের পক্ষেও স্লোগান দেয়। অন্যান্যরা দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন সমস্যার দিকে লক্ষ্য না করে ফিলিস্তিনী ও অন্যান্য আঞ্চলিক আন্দোলনে সরকারের সহায়তার নিন্দা জানায়।

রাশত, হামেদান, কার্মানশাহ্, কাজভিন ও অন্যান্য নগরীতে বিপুল সংখ্যক মানুষ সরকার বিরোধী মিছিলে অংশ নেয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ