ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অপসংস্কৃতির বন্যায় মুসলিম উম্মাহ

মাওলানা মুফতী মোঃ ওমর ফারুক : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তার জীবন ধারণের উপকরণ হিসাবে পৃথিবীর সকল সৃষ্টি সকল আয়োজন কথা কাজ ওঠা বসা হাঁসি কান্না মায়া মমতা সব কিছুতেই রয়েছে ইসলামের সুমহান নীতি আদর্শ। কোন মুসলমান এর বাইরে যেমন কোন কিছু গ্রহণ করতে পারে না তদ্রূপ ইসলামের কোন বিষয় উপেক্ষা করা বা অগ্রাহ্য করার অধিকারও কোন মুসলমানের নেই কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পৃথিবীর পরাশক্তি অ্যামেরিকা চীন জাপান রাশিয়াসহ পাশ্চাত্য দেশগুলোতে পরস্পর সাক্ষাতের শুরুতে অথবা বিদায়ের সময় সকাল বেলায় গুড মর্নিং শুভ সকাল, সন্ধ্যা বেলায় গুড ইভিনিং শুভ সন্ধ্যা, বাই! হ্যায়! গুড নাইট ইত্যাদি শব্দাবলী দ্বারা একে অপরকে সম্বোধন করে কুশলাদি বিনিময় করে যেগুলোর মোটামুটি অর্থ সবাই জানেন যেমন গুড মর্নিং বাই! অর্থাৎ সকাল বেলায় আপনি ভাল থাকেন বিকাল বেলায় ভাল থাকেন ইত্যাদি। তদ্রুপ কারো বিদায়ের সময়, আলাপ আলোচনা শেষে বলা হয় বাই! টা-টা হ্যায়! ইত্যাদি বাক্য বলে পরস্পরের কথা বা আলোচনা সমাপ্ত করেন যার অর্থ শেষ, সমাপ্ত এরূপ বুঝা যায়। ফোনে কল করে রিসিভের সময় হ্যালো হ্যায়! দিয়ে শুরু করেন কথা শেষে বাই! দিয়ে শেষ করা হয়- এর দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উভয়ের লাভ কি? আর যদি কোন লাভ-ই না থাকে তাহলে পাশ্চাত্যের ন্যায় মুসলিম উম্মাহ কেন তাদের এই সংস্কৃতি গ্রহণ করবে? অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জেনে অথবা না জেনে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অথবা এগুলোকে আপডেট মনে করে বিশ্বের অনেক মুসলমান এরূপ অনেক কাজ করছে যা ইসলামের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত। যেমন মোবাইল ফোন রিসিভ করার সময় শিক্ষিত অশিক্ষিত অনেক মুসলমান বলে হ্যালো, কারো বিদায়ের সময় টা-টা-বাই-বাই ইত্যাদি। যদি জিজ্ঞাস করা হয় কেমন আছেন উত্তরে বলা হয় না মরে বেঁচে আছি, কোন মতে আছি, গরীবের খবর নেয় কে? গরীবের থাকা না থাকায় কি হবে ইত্যাদি।
কারো সাক্ষাতে বা বিদায়ে টা-টা, বাই বাই বলা বিত্তশালী বা ধনাঢ্য মুসলমানদের ফ্যাশনে পরিণত হচ্ছে দু’চারজন সালাম দিলেও তা যথাযথভাবে নয় সঠিক উচ্চারণের মাধ্যমে নয় গুরুত্বের সহিত নয় আন্তরিকতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে নয়, এটা যে একটি ইবাদত এই রকম ধ্যানধারণা পোষণ করে নয় বরং কোন মতে দায় সাড়াভাবে সালামকে কয়েক প্রকার ভাগে ভাগ করে আদান প্রদান করা হয়। যেমন কলেজ ভার্সিটিতে বেশীর ভাগ সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা তাদের গুরুজনকে সম্মান দেখিয়ে বলছে স্লামালিকমু স্যার! উত্তরে কেউ কেউ ওয়ালিকুম আবার অনেকে কিছু না বলে মাথা নিচু করে কিছু সময় পরে আরে টিপু! আরে ললিতা কেমন আচিস! নাটক সিনেমা চলচিত্রে হাঁসতে হাঁসতে স্লামালাইকুম বেআইন ছাহেব উত্তরে ওয়ালিকুম সেলাম, আরে আরে আপনি এই সময়! কি খবর? না না খবর তো তেমন কিছু না, আপনার ছেলে টুটুল রোড এ্যকসিডেন্ট করে হাসপাতালে! এসব দ্বারা দর্শকগণ প্রভাবিত হচ্ছে। শ্বশুর শাশুড়ীকে সম্মান দেখিয়ে সালাম দিতে গিয়ে অনেক জামাতা বলেন ছেওয়াম! সা’মায়িকুম! অনেকে আবার মাথা নিচু  করে অনেকটা নামাজের রুকুর ন্যায় শ্বশুর শাশুড়ীর প’ায়ে সালাম করেন। যা মোটেই ইসলামী শরীয়াহ এলাউ করে না। অফিস আদালতে সিনিয়র বস কে সম্মান দেখিয়ে একটু তাড়াতাড়ি করে অনেকে বলেন বস স্লামালিকুম/ আসছামাইকুম! বস অনেক পরে আস্তে করে বলেন (অবস্থার আলোকে মনে হয় সালামের জবাব দিতে অনেক কষ্ট হয়) চুমকী কেমন আছ! আর যদি তা গার্মেন্স ফ্যাক্টরি বা অন্য কোন কলকারখানার শ্রমিক হয় এবং কোন কারণে অফিসে আসতে দু’চার মিনিট দেরি হয়ে যায় তাহলে তো আর সালামের জবাব দেয়া দূরের কথা বরং পাঁচ দশটি গালি/জারী দেয়া ছাড়া কোন কথাই নেই। অফিস আদালতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা কাজে ফোনে মোবাইলে অনেক তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে সালামের প্রচলন হয় সে ক্ষেত্রেও সালাম কে বিকৃতির সাথে অথবা যেভাবে বলা দরকার তা না করে ভিন্নভাবে বলা হয়ে থাকে। কেউ কেউ আসলামালিকুম/শুভ সকাল বলে অফিসের কাজ শুরু করে।
অথচ সঠিকভাবে সালাম দাতা গ্রহিতা একশ নেকী পেয়ে থাকেন। সালামের মাধ্যমে উভয়ের মাঝে শান্তি শৃঙ্খলা ভ্রাতৃত্ব সৌহার্দ মমত্ববোধ প্রেম প্রীতি ভালবাসা বৃদ্ধি করে। হিংস্বা বিদ্বেষ অহংকার দূর করে চরম শত্রুকে পরম বন্ধুতে রূপান্তরীত করে দেয় অন্তরের রোগ দূর করে হৃদয় মনে প্রশান্তি দান করে। যে গৃহে বা পরিবারে এবং সমাজে সালামের অধিক ব্যবহার হয় সেই ঘরে সমাজে রহমত বরকত কল্যাণ ও শান্তির অবিরাম ধারা দিন রাত বইতে থাকে। তাই মহান মা’বুদ এরশাদ করেছেন যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজেদের মাঝে সালাম বিনিময় করবে এটা তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য পুতপবিত্রতা রহমত বরকত ও কল্যাণের মাধ্যম বা উপকরণ যদি তোমরা বুঝতে পার। সুরা আন নূর আয়াত ৬১। মানবতা মনুষত্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মডেল রাসুল সা: বলেছেন ইসলামে সর্Ÿোত্তম কাজ হচ্ছে পরিচিত অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া এবং অনাহারীকে আহার দেয়া। সালামের মাধ্যমে তাঁর একটি উত্তম আদর্শের অনুসরণ অনুকরণ করা হয়। সর্Ÿোপরী সালামের মাধ্যমে মহান মা’বুদের নামের যিকির করা হয় কেননা তাঁর অনেকগুলো গুণবাচক নামের মধ্যে সালামুন শান্তি দাতা একটি অন্যতম নাম।
তবে হ্যাঁ অনেকেই নিজেদের মাঝে সালামের সঠিক ব্যবহার করে থাকেন তার সংখ্যা খুবই কম তবে অধিকাংশই সালামকে গুরুত্বের সাথে আদান প্রদান করে না। নাম কা ওয়াস্তে আন্তরিকতার সহিত নয় মহব্বতে নয়। সালামের মাধ্যমে যে অতি সহজে খুব কম সময়ে কম কষ্টে বিশাল একটি ইবাদত করা যায় এমন ধ্যান ধারণা হয়ত বেশির ভাগ মুসলমানের নিকট অস্পষ্ট। সালামের পরিবর্তে যদি কোন মুসলমান টা-টা, বাই হ্যালো নমস্কার ইত্যাদি শব্দাবলী অধিকতর পছন্দ করে অথবা অগ্রাধিকার দেয় তাহলে সে মূলত ইসলামের রীতি নীতিকেই অপছন্দ করল। ফলে একদিকে সে যেমন ইসলামের সুমহান বাণী সালামকে উপেক্ষা করল অপর দিকে ইসলামের বিধানের প্রচার প্রসারের পরিবর্তে অপসংস্কৃতির প্রচার প্রসার কাজে সহযোগিতা করল। পরস্পর সাক্ষাতের শুরুতে ইসলাম এমন একটি বাক্য প্রয়োগ করেছে যার শাব্দিক অর্থ শান্তি আর পারিভাষিক অর্থ নিরাপত্তা শান্তি সমৃদ্ধি দে’ায়া। সকাল বিকাল দুপুরে শান্তি নয় বরং সব সময়ের জন্য শান্তি কামনা করা। যেমন কারো সাক্ষাতে বা ফোনে অথবা অন্য কোনভাবে কেহ সালাম দিলে এর অর্থ হলো আমার পক্ষ থেকে আপনী নিরাপদ, আমার দ্বারা আপনার কোন ক্ষতি হবে না আমি আপনার সার্বিক কল্যাণ কামনা করি। কারো ঘরে প্রবেশের পূর্বে (এমন কি নিজের ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও) সালামের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। রাসুল সা: তাঁর গৃহে প্রবেশের সময় সালাম দিতেন তাঁর পার্লামেন্ট মসজিদে নববীতে, মজলিসে শূরার সদস্যদেরকে এবং অপরাপর সর্বসাধারণকে তিনিই আগে সালাম দিতেন। ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যাওয়ার সময় অনেক অভিবাভক টা-টা বাই বাই বলে বিদায় দেয় উত্তরে ছোট মনিরা তাই বলে অথচ এর দ্বারা বিন্দু পরিমাণ ছওয়াব বা পুণ্য হয় না। যখন সালামের মাধ্যমে বাচ্ছাদেরকে স্কুল মাদরাসায় বা অন্য কোথাও পাঠানো হবে এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয় কারণ পিতা মাতা যখন সন্তানের সালামের জবাবে বলবে তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক তখন সন্তানের জন্য পিতা মাতার দোয়া সাথে সাথে মন্জুর, আবার সন্তানের পক্ষ থেকে পিতা মাতার জন্য যে দোয়া করা হয় তাও মকবুল। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে কোন তোয়াক্কা না করে ধার করা পচা সংস্কৃতির ব্যবহার করে গর্ববোধ করছি! অন্যদিকে অপসংস্কৃতির বন্যায় নিজেদের মহামূল্যবান বিষয়াবলীকে ডুবিয়ে দিতে সহযোগিতা করছি! বর্তমান সময়ে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে, মেয়েদের গায়ে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা অহরহ ঘটছে, নানা ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিশু কিশোর প্রতিনিয়ত কিডনাফ হচ্ছে আশা করা যায় যে সকল পরিবার পরিজন সালামের মাধ্যমে ঘর থেকে বের হবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাদের হেফাজত করবেন নিরাপত্তা দিবেন।
শিশু জন্মের পর জন্ম দিন পালন করা মুসলিম সমাজে বর্তমানে একটি আবশ্যক বিষয় হিসাবে পরিগণিত হতে যাচ্ছে মনে হচ্ছে যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ এটা না করলেই নয়! তাই জন্ম দিনের কেক, মোমবাতি জ্বালিয়ে হাত তালি দিয়ে ছেলে মেয়ে নারী পুরুষ, পাড়া প্রতিবেশী একত্রে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে ফেইসবুকে না দিলে জন্ম দিনই অপূর্ণ থেকে যাবে! শিশুর নিরাপত্তা পিতা মাতার খুশির বহিঃপ্রকাশ, বন্ধু বান্ধব পাড়া-প্রতিবেশীকে খাওয়ানোর সু ব্যবস্থা ও অতিব নেক কাজের মাধ্যম হিসাবে ইসলাম শিশুর জন্য আকীকার বিধান রেখেছে। পরিবার পরিজন নিকট আত্মীয় দেশের জন্য নিবেদিত মহৎ কোন ব্যক্তির মৃত্যু অবশ্যই মেনে নেয়া যায় না কিন্তু যেহেতু তা মহান আল্লাহ তায়ালার বিধান তা মেনে নিতে হবেই। তাই নিকটতম কারো মৃত্যুর সাত দিন দশ দিন চল্লিশ দিনের মাথায় অথবা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা নিজেদের উপড় আবশ্যক করে নিয়ে সংসারে কোন টাকা পয়সা না থাকলে ঋণ করে হলেও বিরাট আকারে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে ধনী গরীব সকলকে খাওয়ানো প্রকৃতপক্ষে আনন্দ অনুষ্ঠানেই রূপ নেয় যা বড় ধরনের একটি অপসংস্কৃতি ব-ই আর কিছুই নয়! শুধু তাই নয় কোথাও কোথাও এমনও দেখা যায় যে সকালে মৃত ব্যক্তির নামে কোরআন খানি বিকালে সংস্কৃতি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের নামে নাচ গান ঢাক ঢোল বাজিয়ে সকালে যতটুকু না লোক দেখানো নেক কাজ হয়েছে বিকালে শতগুণ বেশী গুনাহর কাজের আয়োজন করে প্রকৃতপক্ষে মৃতব্যক্তির আত্মার সাথে তামাশা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। মৃতের বন্ধু-বান্ধব আত্মীয় স্বজন মিলে তার কবরের পাশে মোমবাতি জ¦ালিয়ে কিছু সময় নীরবতা পালন করা কোন ঈমানদারের কাজ নয়, বরং এটা ইসলামী তাহযীব তামাদ্দুনের সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ। এটা সম্পূর্ণ অপসংস্কৃতির অনুকরণ অনুসরণ মাত্র।
ভাল বংশে বিয়ে করা ভাল প্রাত্রী নির্বাচন করে বৈবাহিক বা দাম্পত্য জীবন কায়েম করে পারিবারিক জীবনে বসবাস করার সুমহান অধিকার নারীকে ইসলাম দিয়েছে। কিন্তু পাত্রপাত্রী গোসল দেয়ার সময় গায়ে হলুদের নামে আশপাশের এলাকার ছেলেমেয়ে বন্ধু-বান্ধবী মিলে পাত্র-পাত্রীকে গোসল করাবে, পাত্রীর সাথে সহ-পাত্রী হিসাবে আরো অনেকে সেজেগুজে বিয়ের আসরে বসবে সহজে বুঝা যাবে না আসল পাত্রী কে এরূপ বসা, বিয়েবাড়ি থেকে কমপক্ষে দু’চার কিলোমিটার পর্যন্ত লাল-নীল বাতি জ¦ালিয়ে সকাল-সন্ধ্যা অবিরাম গতিতে কানফাটা বলিয়মে দেশী বিদেশী সিডি ভিসিডির ক্যাসেড বাজানো মুসলমানদের বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিয়ে বাড়ির গান বাজনা এত বেশী মাত্রাতিরিক্ত হয় যে এর আওয়াজে আশপরাশের বাসা বাড়ি এমনকি মসজিদে পর্যন্ত নামাজ আদায় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। শুধুু তাই নয় খাওয়া দাওয়া বর যাত্রা এসব পর্বে নারী পুরুষ ছেলে মেয়েদের এমন কুরুচি সম্পন্ন পোশাকে দেখা যায় যে খোদ হিন্দুস্থানকে হার মানায়!
কোন গৃহে ঝুলন্ত ছবি রাখা ইসলাম অনুমোদন করে না তা পোস্টারে ব্যানারে কাঠে খোদাই করে অথবা অন্য যে কোনভাবেই  হোক না কেন। তবে হ্যাঁ একান্ত প্রয়োজনে এ্যালবামে অথবা অন্য কোনভাবে রাখা যেতে পারে যেন যখন তখন চোখে না পড়ে। কিন্তু বর্তমানে ছবির সংস্কৃতি এত বেশী ছড়িয়ে পড়ছে যে ছবি ছাড়া কোন পণ্যসামগ্রী পাওয়াই মুশকিল! বাচ্চাদের খাবার দাবার স্কুলের ব্যাগ, পানির পট, জুতা ব্যাগ কলম খাতা ইত্যাদিতে নানা রঙের কার্টুন ও ছবির সমাহার। বাসাবাড়ি, অফিস আদালতের দৈনন্দিন ব্যবহারের আসবাবপত্রের এমন কোন কিছু হয়ত পাওয়া যাবে না যার গায়ে কার্টুন বা কুরুচি সম্পন্ন ছবি দেয়া নেই। ছোট একটি দেশলাই থেকে শুরু করে হাড়িপাতিল জগ মগ খাট পালং এসব কিছুতে শুধু ছবি আর ছবি। জামা-কাপড় পেন্ট শার্ট গেঞ্জিতেও ছবি। কখনো কখনো মসজিদে নামায আদায় করতে গিয়ে দেখা যায় যে সামনের কাতারে মুসল্লির পরনের জামার পিছনে মানুষ বা প্রাণীর ছবি! অবস্থা এতই বিব্রতকর যে না পারা যাচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থায় নামায আদায় করতে আর না পারা যাচ্ছে যে ঐ মুসল্লিকে জামা পাল্টিয়ে আসার জন্য মসজিদ থেকে বের করে দিতে! কেন এমনটি হলো যে, একজন মুসলমান প্রাণীর ছবি সম্বলিত পোশাক পরিধান করবে? আবার এটা পরিধান করে মসজিদে যাবে! এর জন্য দায়ী কারা? ছবি সম্বলিত পোশাক পরিহিত যুবক? না তার পিতা মাতা? না সমাজ? না কি? না জেনে না বুঝে অন্ধের ন্যায় পাশ্চাত্যের অনুসরণ? নববর্ষ ১লা বৈশাখ, থারটি ফাস্ট নাইট দিবসে বনের হিংস্র প্রাণী বাঘ ভল্লুক সিংহ কুমিড় এদের মুখোশ পরে নাচে গানে মেতে ওঠা, মঙ্গল প্রদীপ জ¦ালিয়ে রাস্তায় মিছিল বের করে যুবকেরা কোন সংস্কৃতির চর্চা করেন? কোথা থেকে এর প্রচলন ঘটলো? আমার বুঝে আসে না। একজন রিকসা চালক তার প্রথম ভাড়ার টাকা হেন্ডেলবারে লাগিয়ে সালাম করবে, দোকানদার তার প্রথম বিক্রির টাকা ক্যাশ বক্সে রাখার সময় সালাম করবে, খালি কলস সামনে পড়লে যাত্রা অশুভ, নছুন বৌ কে ধান দুবরা, নতুন কুলা দিয়ে নামাতে হবে এসব অবৈধ, অপসংস্কৃতি তুফানের মত ধেয়ে চলছে।
বর্তমানে একশ্রেণীর যুবক যুবতীদের কে পিছন থেকে বুঝা যায় না তারা ছেলে না মেয়ে? তাদের বেশ ভুষা দেখে প্রাথমিক ভাবে বলা মুশকিল যে, কে মেয়ে আর কে ছেলে? কে মুসলিম কে অমুসলিম প্রকৃতপক্ষে তারা সবাই ঈমানের দাবিদার নামধারী মুসলমান। কোন কোন ছেলে মাথার চুল এত বেশী লম্বা করে এবং হাতে প্লষ্টিকের ছুরি পরে নিজেকে এমন ডিজাইনে উপস্থাপন করে যেন সে পঁচিশ বছরের যুবতী! আবার কিছু কিছু মেয়েরা নিজেদের বেশ ভুষা মাথার চুল কেটে এত বেশী মর্ডান করে জাহির করে যেন দেখতে আঠার বছরের পূর্ণ যুবক! ঐশী নামের মেয়ে যে তার পিতা কে নিজ হাতে হত্যা করেছে সে ঐ গ্রুপের-ই-সদস্য ছিল।
এর জন্য দায়ী কারা? ছবি সম্বলিত পোশাক পরিহিত যুবক? তার পিতা মাতা, সমাজ ব্যবস্থা? শিক্ষা ব্যবস্থা? না অপসংস্কৃতির অনুসরণ? না না আমি কাউকে দায়ী করছি না। এর জন্য কে দায়ী এর দায়িত্ব সম্মানীত পাঠকদের কাছে রেখে আজ এখানেই শেষ করলাম।
লেখক : কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যতিক ও বিশিষ্ট ব্যাংকার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ