ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের কর্মসূচি

চুয়াডাঙ্গায় চলতি বোরো মওসুমে ধান লাগাতে ব্যস্ত কৃষকরা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি ২০১৭-১৮ বোরো মওসুমের শুরুতে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রার শীত উপেক্ষা করে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। বিগত বছরগুলোতে ইরি-বোরো আবাদ করে আশানুরুপ লাভবান হতে না পেরে দিন দিন এ আবাদ কমিয়ে চাষিরা অন্য ফসল আবাদে ঝুঁকে পড়েছিল। গত বছরও চাষীরা ধান বিক্রির পর মূল্য বাড়ায় চাষীরাও সে মূল্যও ধরতে পারেনি। চলতি মওসুমেও ধানের উচ্চ মূল্য লক্ষ্য করে চাষীরা উৎসাহী হওয়ায় জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবার প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।
বিগত ২০১০-২০১১ থেকে শুরু করে বিগত মওসুম পর্যন্ত জেলায় ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন ও অর্জনের চিত্রে দেখা গেছে, বিগত বছর গুলিতে জেলায় ইরি-বোরোর আবাদ ক্রমশঃ কমেছে। ইরি-বোরো আবাদের এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে এ জেলায় খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, চলতি মওসুমে জেলায় ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ধান চাষ হবে ২ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে এবং উপসী জাতের ধান চাষ হবে ৩১ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে। উপজেলা ভিত্তিক তালিকায় দেখা যায়- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ধান চাষ হবে ৭৫০ হেক্টর এবং উপসী জাতের ধান চাষ হবে ৪ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে। জীবননগর উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ধান চাষ হবে ৫০০ হেক্টর এবং উপসী জাতের ধান চাষ হবে ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। দামুড়হুদা উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ধান চাষ হবে ৪১৪ হেক্টর এবং উপসী জাতের ধান চাষ হবে ৮ হাজার ১১৯ হেক্টর জমিতে এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় হাইব্রীড জাতের ধান চাষ হবে ৭৯০ হেক্টর এবং উপসী জাতের ধান চাষ হবে ১১ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
জানা গেছে, বেশ ক’বছর ধরে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি অপরদিকে ব্যাবসায়ীদের কারসাজিতে কাঙ্খিত বাজারদর না পেয়ে এ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভুট্টা, সবজিসহ নানা ফসলের আবাদে ঝুঁকে পড়েছে এলাকার চাষীরা। সেই সাথে ইরি-বোরো আবাদে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে সেচ, লাঙ্গলের খরচ ও শ্রমিকের মজুরী। ফলে এ আবাদ করে লাভবান না হতে পেরে ভূট্টা, সবজিসহ অন্যান্য ফসলের আবাদে ঝুকছে। তারা আরোও জানান, বর্তমানে ভেজাল বীজ, সার ও কীটনাশকে এলাকার বাজার সয়লাব। এসব কৃষিপণ্য কিনে কৃষকরা প্রায়ই প্রতারিত হলেও এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের কোন মাথাব্যাথা লক্ষ্য করা যায় না। তাই কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াতে এ খাতের নানা অনিয়ম ও নৈরাজ্য দুর করা দরকার বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক নাঈম আস সাকিব দৈনিক সংগ্রামকে জানান- চুয়াডাঙ্গায় চলতি বোরো মওসুম সফল করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতিগত কারণে এই জেলায় বর্তমানে অত্যাধিক শীত পড়লেও ইতিমধ্যেই চাষীদের বীজতলা প্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় এর তেমন কোন প্রভাব পড়বেনা। তা ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও চাষীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও সবধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি আমরা যথাযথ টার্গেট পূরণ করতে সক্ষম হবো।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে- মাঠে মাঠে কোথাও জমি প্রস্তত করার কাজে ব্যস্ত কৃষক,আবার কোথাও  চারা রোপন করার চিত্র। শীতেরমাত্রা একটু কমলে পুরাদমে শুরু হবে ইরি রোপন করার কাজ এমনটায় জানালেন কৃষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ