ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শৈত্য প্রবাহের কারণে দিনাজপুরে আমন বীজতলাসহ সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: শৈত্যপ্রবাহ আর পৌষের কনকনে ঠাণ্ডায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিকেল থেকে সারারাত শৈত্য প্রবাহের তীব্রতা আরো প্রখর হয়ে পড়ে। এর কারণে জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা। সবচেয়ে কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ, শিশু ও কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকা শ্রমিকেরা। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতকালিন রোগজনিত কারনে বেড়ে যাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। শীত নিবারনে গরম কাপড়ের চাহিদার তুলনায় প্রাপ্যতা অপ্রতুল।
এ রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য গেলে এলাকার হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষদের আহাজারি শীত বস্ত্রের জন্য। এদিকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও হিমেল হাওয়ার কারনে চলতি বোরো মৌসমে মাঠের পর মাঠ বীজতলা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বীজ ভালো না হলে বোরো ধানের ফলনও আশানুরুপ হবে না। বিনোদনগর ইউনিয়নের কৃষক মো. মাহাবুবুর রহমান, ফতেপুর মাড়াষ গ্রামের আব্দুল করিম, কপালদাড়া গ্রামের মো.বাবুল মিয়া, হেয়াতপুর গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন তারা জানান, বোরো বীজ তলা ভালো হয়েছে। প্রথমের দিকে তেমন শীত ছিল না। কিন্তু একটানা কয়েকদিনের শীতের কারনে বীজতলা নিয়ে সমস্যা বোধ করছেন কৃষকরা। তবে বীজ তলা ও সবজির ক্ষেত রক্ষার্থে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, কয়েকদিনের শীতে বীজ তলার ও সবজি ক্ষেতের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। সার্বক্ষনিক বীজতলা ও সবজি ক্ষেত বাচাতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ৯নং কুশদহ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সায়েম সবুজ জানান, তার ইউনিয়নে চাহিদার তুলনায় কম্বল পেয়েছে অল্প। ৩ হাজার শীতার্ত মানুষের চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রেফাউল আজম জানান, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৬৭৫ আর বিরামপুর উপজেলার জন্য ৩ হাজার ৯৫০ পিস কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রাপ্ত কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, উপজেলায় শীত বস্ত্রের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সরকারি ভাবে কতখানি কম্বল পাওয়া গেছে তা তার জানা নেই।
উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. পারুল বেগম জানান, সরকারিভাবে পাওয়া কম্বলগুলো এতিমখানা, আশ্রয়নকেন্দ্র সহ শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে বেসরকারি সংস্থা ল্যাম্ব এর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মি. উৎপল মিনজ জানান, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সহ অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে তারা কম্বল বিতরণ করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ