ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শীতে কাহিল লালমনিরহাটবাসী

মো: লাভলু শেখ, লালমনিরহাট থেকে: ভয়াবহ শীত দেখা দিয়েছে লালমনিরহাটে। প্রতিদিন সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে অব্যহত ঘন কুয়াশার সাথে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত বস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। দেখা দিয়েছে শীতজনিত নানা রোগ।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েক জেলায় শীত অনেক আগেই অনুভূত হয়। এবারেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবারে পৌষ মাসেই অনুভূত হচ্ছে মাঘের শীত। দুপুর গড়ালেও সূর্য্যরে দেখা মিলছে না উত্তরাঞ্চলের কোনো জেলায়।
কোথাও কোথাও কিছুক্ষণের জন্য সুর্য্যরে মুখ দেখা গেলেও বার বার ডেকে যায় ঘন কুয়াশায়। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। দিনের বেলায় হেড লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। কনকনে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না খেটে খাওয়া মানুষগুলো। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী স্বল্প আয়ের মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এসব মানুষগুলো শীতে কাজ-কর্ম করতে না পেরে চরম অর্থকষ্টে ভুগছে, আবার  গরম কাপড়ের অভাবে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ অবস্থায় শীতকাতর মানুষরা খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।এদিকে ডায়রিয়া এবং নানা শীতজনিত রোগে কাহিল হয়ে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধমানুষ। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ কাশেম আলী জানান, এ পর্যন্ত জেলায় যেসকল শিশু ও বয়ষ্ক মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত এবং ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে তাদের চিকিৎসা চলছে। জেলার ৫ উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরদিকে ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। আলুর খেতে দেখা দিয়েছে লেটব্রাইট রোগসহ বিভিন্ন রোগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষন রায় বলেন, আলুখেত লেটব্রাইট রোগ থেকে রক্ষা করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রানভান্ডার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৩১ হাজার ৯শত ২১ পিচ কম্বল  জেলার শীতার্ত মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে বিতরন করা হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, তাই  দ্রুত শীতবস্ত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ