ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কক্সবাজারে ঠাণ্ডাজনিত রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

কক্সবাজার সংবাদদাতা: জলবায়ুগত দিক দিয়ে কক্সবাজারে শৈত্য প্রবাহ নেই বললেই চলে। এরপরও জেলাজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। অনুভূত হচ্ছে মাঝারি আকারের শৈত্য প্রবাহ। গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। প্রচন্ড শীতে সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজ না পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। শীতের প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতাল ও স্বাস্থ কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে শিশু ও অন্যান্য রোগীর সংখ্যা। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের গরম কাপড় পরার ও খাবার দাবারে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ তাদের।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে সদর হাসপাতালে। বেশীর ভাগ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় ঔষধের পাশাপাশি কিছু সময় পর পর দুই মাসের কমবয়সীদের অক্সিজেন ও বেশি বয়সীদের নেবুলাইজার দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। এসব শিশু বুকের দুধ খেতেও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানায় অভিভাবকরা।
এক অভিভাবক বলেন, ২০-২১ দিন ধরে আমার বাচ্চা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়া শীতকালীন ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। অসুস্থতা আশংকাজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়েই হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
অপর এক অভিভাবক বলেন, প্রথম আসার পর আমার বাচ্চাকে অক্সিজেন ও স্যালাইন দেয়া হয়েছিল। এখন অক্সিজেন বন্ধ করে নেবুলাইজার ও ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে।
শীত প্রকোপে শিশুসহ অন্যান্য রোগীর সংখ্যা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ক্রমাগতই বাড়ছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ও ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই শিশুরা বেশী অসুস্থ হচ্ছে।
চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত জানিয়েছেন, এ সময় বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে সকালে উঠে কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। বাচ্চার যাতে ঠান্ডা না লাগে সেজন্য উষ্ণ আরামদায়ক কাপড় ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া প্রচুর তরল খাবার খাওয়াতে হবে। জ্বর ও শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শীত জনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো ও বেশী বয়সের শিশুদের ফল-মূল ও শাকসবজি খাওয়ানোর ওপর জোর দেন এই চিকিৎসক।
এছাড়াও কক্সবাজারে গত কয়েক দিনে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবারও তাপমাত্রা পূর্বের তুলনায় আরোও কমছে, সেই সাথে বেড়েছে শীতের তীব্রতাও। গতকাল বুধবার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার তাপমাত্রা ছিলো ১৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। প্রতি দিনই সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলছে ঠিকই কিন্তু সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে রাতভর প্রচন্ড শীত জেঁকে বসে। এমনটি চলবে আরোও ২-৩ দিন। এরপর থেকে মোটামুটি শীত কমতে শুরু করবে, জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ