ঢাকা, শনিবার 13 January 2018, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মদ্যপ অবস্থায় পিস্তল উঁচিয়ে ভয়ভীতির অভিযোগ

খুলনা অফিস: মদ্যপ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দিকে পিস্তল তাক করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ব্যবসায়ী সৈয়দ মনির হোসেনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনার আগেও আরো বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে সৈয়দ মনিরের বিরুদ্ধে। রাস্তাঘাটে, মার্কেট, হোটেল রেস্তোরাঁয় যত্রতত্র পিস্তল উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখান তিনি।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের একটি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। সব সময় অস্ত্র অন্যের দিকে তাক করে ভয় দেখানোর জন্য কাউকে লাইসেন্স দেয়া হয়নি। এ ধরনের কর্মকান্ডকে সন্ত্রাসী কাজ ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। তাছাড়া সৈয়দ মনিরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ইতমধ্যে দু’টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তার পিস্তলটি বর্তমানে জব্দ রাখা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।  
সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১৬ সালে সৈয়দ মনিরের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে রূপসা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই আবেদন করা হয়। মনিরের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের ওই আবেদনে বলা হয়, মনির মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকাটা সাধারণ মানুষের জন্য বিপদজনক। আবেদনের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করেছেন। তবে মনিরের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলে সে সময় কি প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে তা জানা যায়নি।
২০১৪ সালে নগরীর ডাকবাংলো মোড়স্থ স¤্রাট বাজারের শো-রুমে ঢুকে এই পিস্তল তাক করে প্রতিষ্ঠানের মালিককে হুমকি দেয়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাধার মুখে সৈয়দ মনির পিছু হটে। এরপর খুলনা সদর থানায় গিয়ে মনির হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করে ক্ষমা পান বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ নগরীর সিটি ইন হোটেলের রেস্টুরেন্টে পিস্তল উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেয়াকালে গ্রেফতারকৃত সৈয়দ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ৩ জানুয়ারি র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানির ডিএডি মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দু’টি দায়ের করেন।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। যার শুনানি হবার কথা রয়েছে আগামীকাল ৭ জানুয়ারি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ