ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের ‘হোতা’সহ ১৭২ বাংলাদেশি আটক

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মানবপাচার ও অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় এক ‘হোতা’সহ ১৭২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সেকশন ২৮ শাহ আলম  এলাকা থেকে ৫১ জন এবং সুবং জয়াতে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তফার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আবদুল রউফ নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে মানুষকে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে নিয়ে এসেছেন। তিনি এখানে ‘এবং বাংলা’ নামেও পরিচিত।

এই চক্রের মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪৮টি পাসপোর্ট এবং ১৩ হাজার রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাচারকারীরা বাংলাদেশিদের প্রথমে বিমানে করে ঢাকা থেকে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে তাদের মালাক্কা প্রণালির এক জায়গায় এনে রাখা হয়। সুযোগ সময়মতো তাদের সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় ঢোকানো হতো। এজন্য প্রত্যেক বাংলাদেশির কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত (তিন লাখ ১৪ হাজার টাকা থেকে চার লাখ ১৮ হাজার টাকা) নেওয়া হতো।

দাতুক সেরি মুস্তফার আরো জানান, কেউ টাকা দিতে না পারলে তাঁকে সেখানেই রেখে দেওয়া হতো। টাকা বুঝে পাওয়ার পরই তাদের মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।

২০১৩ সালে ইটভাটায় কাজ করতে মালয়েশিয়ায় যান রউফ। তাঁর বিরুদ্ধে মানবপাচারবিরোধী আইনে মামলা হবে। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে মামলা হবে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার সুবং জয়াতে আলাদা এক অভিযানে ১২১ বাংলাদেশি, ৬০ ভারতীয় ও দুই পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মুস্তফার। তিনি বলেন, তারা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ও অবৈধ সেক্টরে কাজ করাসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা নিশ্চিতের জন্য ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে সে দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে আপাত ব্যবস্থা হিসেবে ওই অবৈধ শ্রমিকদের গত বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ই-কার্ড তথা কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে বলেছিল তারা। এই সময়সীমা কোনওভাবে বাড়ানো হবে না জানিয়ে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযানের মধ্য দিয়ে অবৈধদের গ্রেফতার শুরু করে মালয়েশিয়া। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সেই সময় তাদের বিবৃতিতে জানায়, অবৈধ শ্রমিকেরা পাচার চক্র ও নিয়োগদাতাদের প্রতারণার শিকার। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ