ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়েছেন -মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সরকারের চার বছরে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন উন্নয়ন মেলার নামে সরকার দুর্নীতির মেলা বসিয়েছেন।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট’।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য কোনো সরকার গঠন করার কোনো ব্যবস্থা এই সংবিধানে নাই। একথাটা বলে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। মূল কথা হলো যে, এই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেটাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং সেনা মোতায়েনের দাবি রয়েছে বিএনপির; সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছু না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মওদুদ।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, সারা জাতি প্রত্যাশা করে ছিলো যে, আগামী নির্বাচন কীভাবে দেশে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছু একটা বলবেন। কিন্তু সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে আসা শেখ হাসিনা যে অবস্থান বদলাননি, তার ভাষণে তা স্পষ্ট।
 বিএনপির স্থায়ী কমিটির  সদস্য বলেন, এই ভাষণে দেশের সত্যিকারের চিত্র তিনি তুলে ধরেননি। তার এই ভাষণ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-দুঃখ-কষ্ট নিরসন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে ফিরিস্তি দিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রেখে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়নের কথা বলেছেন এবং বিরোধী দলকে কীভাবে আঘাত করা যায়, সেভাবেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু দেশে যে গণতন্ত্র নাই, আইনের শাসন বিলপ্তির পথে, প্রধান বিচারপতির অপসারণের মধ্যে দিয়ে বিচার বিভাগের মৃত্যু ঘটানো হয়েছে, নিম্ন আদালত যে নির্বাহী বিভাগের অধীনে গেছে, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণে মাসদার হোসেনের মামলার যে মৃত্যু ঘটেছে, সংসদ যে অকার্যকর, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে একটি ভোটবিহীন নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিবে কি-না বা সেনা মোতায়েন করা হবে কি-না, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, সাগর-রুনির হত্যা বিচার, জনগণের টাকা লুষ্ঠন করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা কিছু শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এসব তার বক্তব্যে বলেন নাই। সুতরাং তার ভাষণ একতরফা ভাষণ।
তিনি বলেন, যে উন্নয়নের মেলার কথা বলা হয়েছে, এটা উন্নয়নের মেলা নয়, দুর্নীতির মেলা বসানো হয়েছে। প্রত্যেকটি উন্নয়নের পেছনে যে ব্যাপক দুর্নীতি, সেটা সকলেই জানেন। উন্নয়নের নামে দেশে যে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনো ফিরিস্তি প্রধানমন্ত্রী দেননি।
কি করে নির্বাচন হবে-এমন প্রশ্ন রেখে মওদুদ বলেন, একটি দল নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে গেছে। আর বিএনপিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। কোন সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। এছাড়া শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার যে একটি অনির্বাচিত সরকার এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিন হয়নি। এই কথাটাও তিনি বলতে ভুলে গিয়েছেন-বলেন মওদুদ।
নিজেদের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক  বলেন, কখন যে কে গ্রেফতার হয় তার কোন হিসেব নেই। কিন্তু আমাদের কোন উপায় নাই, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, বিচারবিভাগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সুতরাং আমাদের ওপর যতই নির্যাতন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হোক না কেনো, কোন কিছুই আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ