ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের প্রয়োজন নেই -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন বিএনপির অধিকার, এটা সুযোগ নয়।’ বসাবসির কী প্রয়োজন এখানে? সরকারের দয়াদাক্ষিণ্যের ওপর নির্বাচন করবে তারা? তাহলে সংলাপে বসবে কেন? নির্বাচন নিয়ে কোনও জটিলতা আছে বলে জনগণ মনে করে না।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, ‘সংলাপ কেন হবে না, প্রয়োজন হলে হবে। কিন্তু এখন নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। নির্বাচনের জন্য সংবিধানে যে পথ রয়েছে, সেই অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সেই পথ নিয়ে সংলাপ করতে হবে কেন?’
২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের জন্য খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যাননি। এছাড়া খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো মারা যাওয়ায় তাদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু দরজা বন্ধ রেখে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
এসব প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপের পরিবেশ বিএনপিই রাখেনি। সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে নোংরা ভাষায় অসৌজন্যমূলক কথা বলেছেন খালেদা জিয়া, মনে আছে? সেদিন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে খালেদা জিয়া গণভবনে এলে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চেহারাটা অন্যরকম হতো। সংলাপের পরিবেশ তারাই নষ্ট করলেন। পুত্রহারা মাকে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিলেন তিনি। বিএনপি সংলাপের কথা যতই বলে, এটা তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। সংলাপের মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই। তারা সংলাপ চায় না। সংলাপের ইচ্ছা থাকলে নোংরা ভাষায় সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখান করতো না তারা।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনের নামে এবার কোনও আগুন-সন্ত্রাস হলে বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে মাঠেই প্রতিরোধ করবে। এজন্য কোনও সংলাপের প্রয়োজন হবে না। এবার আর কোনও অচলাবস্থা জনগণকে দিয়ে তৈরি করতে পারবে না তারা। আগুন-সন্ত্রাস করে তারা যে ভুল করেছে, সেই ভুলের মাশুল তাদের আরও অনেকদিন দিতে হবে।’
 সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে, এটা সংবিধানেই আছে। ওই ক্যাবিনেটের কাজ ও আকার কমে আসে। তারা সরকারের রুটিন কাজ পালন করবে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইসির অধীনে চলে যায়। নির্বাচন কমিশনের যে যে সহযোগিতা দরকার, নির্বাচনকালীন সরকার তাই করবে।’
এদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মন্তব্য করেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলে সংবিধানে কিছু নেই। এর জবাবে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ বহুরূপী। মওদুদ সম্পর্কে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। তিনি আইনের মুখোশ পরে বেআইনি কথা বলেন। সংবিধানে সবই আছে। সংবিধান আরেকবার ভালোভাবে দেখবেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ