ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল (বামে) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া -ছবি  রয়টাস

১৩ জানুয়ারি, রয়টার্স/এক্সপ্রেস ট্রিবিউন : ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান যথেষ্ট কাজ করছে না’- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। গত শুক্রবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেলের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি এ বিষয়ে নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন তাতে পুরো পাকিস্তানি জাতি মনে করছে আমরিকা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে জেনারেল ভোটেল সেনাপ্রধানকে ফোন করেন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানান, ফোনালাপে জেনারেল ভোটেল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আফগানিস্তানে হামলা চালানোর জন্য সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে মার্কিন সেনারা একতরফা কোনও অভিযান চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাবে।

আফগান তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সহায়তা কামনা করেন মার্কিন জেনারেল। এর আগে ২০১৮ সালের প্রথম দিন বছরের প্রথম টুইটে পাকিস্তানকে দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা বন্ধের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতোই পাকিস্তানকে গত ১৫ বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। বিপরীতে তারা আমাদের মিথ্যা ও শঠতা ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভাবছে। আমরা আফগানিস্তানে যেসব সন্ত্রাসীদের তাড়া করছি তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান। আমাদের কোনও সহযোগিতা করছে না। আর না।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিষোদগার অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের প্রায়ই নিরাপদ আশ্রয় দেয়।’ গত ডিসেম্বরেও ট্রাম্প বলেছিলেন, সবার ভালোর জন্য তিনি হয়তো পাকিস্তানকে দেওয়া সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে পারেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও সম্প্রতি আফগানিস্তান সফরকালে বলেন, ‘পাকিস্তানকে নজরে রাখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।’

ট্রাম্পের এ সংক্রান্ত সর্বশেষ টুইটের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে পরোয়া করে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকানের প্রতি আমার পরামর্শ, তিনি যেন একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। ভবিষ্যতে যাতে আমাদের আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। পাকিস্তানের ভাবমূর্তির ওপর কেউ যেন এভাবে হামলে পড়ার সুযোগ না পায়।

নওয়াজ শরিফ বলেন, নাইন-ইলেভেনের ঘটনার পর বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে পাকিস্তান কখনও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি হতো না। তৎকালীন স্বৈরশাসক যেভাবে সক্ষমতা ও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়েছে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে পরিস্থিতি তার চেয়ে ভিন্ন হতো। তারা আত্মসম্মান বিকিয়ে দিতো না। এটা ২০০১ সাল নয়। কোনও সামরিক স্বৈরাচার (পারভেজ মোশাররফ) এখন দেশ পরিচালনা করছে না। একটা ফোন কলেই আমরা এখন আর সন্ত্রস্ত হয়ে যাবো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ