ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিজেএমসি’র কর্তাদের দুুর্নীতির কারণে সারাদেশে পাটকলে শ্রমিক অসন্তোষ

খুলনা অফিস : পাটকল শ্রমিক নেতারা বলেছেন, বিজেএমসি’র কর্মকর্তাদের দুুর্নীতির কারণে  সারাদেশে পাটকলে শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিএমআরই ছাড়া ৭০ বছরের পুরানো যন্ত্রপাতি দিয়ে পাটকলগুলো চলছে। অদক্ষ, অব্যবস্থাপনায় টার্গেট উৎপাদন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

বিজেএমসির কর্মকর্তাদের প্রতারক আখ্যা দিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, অবসারপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অবসর নেয়ার পর তাদের পি এফ গ্রাচ্যুইটি অর্থ প্রদান করেনি। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা অবসরপ্রাপ্তদের ধোকা দিয়েছে। এমনকি মৃত শ্রমিকের বীমার টাকাও প্রদান করেনি বিজেএমসি। পাটকলে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য বিদেশে রফতানি করতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হলেও মিলগুলোতে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ মুজরি প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে কর্মকর্তারা। শ্রমিকদের গায়ের ঘাম কর্মকর্তাদের ভোগ বিলাস বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। সকল শ্রমিকের বকেয়া মজুরি প্রদান এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না হলে অন্দোলন চলবে বলে শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে নগরীর খালিশপুর পিপলস গোলচত্বরে শ্রমিক জনসভায় শ্রমিক নেতারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদ এ জনসভার আয়োজক। 

জনসভার শুরুতে জেজেআই, ইস্টার্ন, আলিম, ক্রিসেন্ট, স্টার, প্লাটিনাম, দৌলতপুর ও খালিশপুর জট মিলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন। মিছিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের উপস্থিতিতে জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। 

জনসভায় শ্রমিক নেতারা আরো বলেন, বিজেএমসির আওতাধীন সকল মিল সমূহে প্রায় ৮৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী জড়িত। পাট ও পাট শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিজেএমসিতে দক্ষ লোকের অভাব। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা সময়মত মজুরি, বেতন পাচ্ছে না। এ শিল্পর সাথে প্রায় তিন কোটি মানুষ জড়িত এ বিপুল জনগোষ্ঠী আজ দেশী-বিদেশী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের শিকার। এ সময় মুজরি কমিশন ঘোষণা, প্রত্যেক মিলে বকেয় মজুরি, ২০% মহার্ঘ ভাতা, ৫০২নং সার্কুলার অনুযায়ী মুজরি প্রদান, খালিশপুর, দৌলতপুর জুট মিলে শ্রমিকদের স্থায়ী করে অন্যান্য মিলের নিয়মে মজুরির ব্যবস্থাসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান। 

জনসভায় স্টার জুট মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আ. মান্নানের সভাপতিতে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ও প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন। জনসভায় বক্তৃতা করেন পরিষদের কার্যকরী আহবায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, জেজেআই মিলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মল্লিক, ইস্টার্ন জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, স্টার মিলের সভাপতি বেল্লাল মল্লিক, ইস্টার্ন মিলের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, আলীম জুট মিল মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটু, জেজেআই মিলের সিবিএ নেতা মো. হাসান উল্লা, ক্রিসেন্ট মিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. পান্নু মিয়া, খালিশপুর জুট মিলের সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, দৌলতপুর জুট মিলে এডহক কমিটির সভাপতি মো. হেমায়েত উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, শ্রমিক নেতা মো. দ্বীন ইসলাম, মো. আবু জাফর, কাওসার আলী মৃধা, খলিলুর রহমান, হুমায়ুন কবির, গাজী মাসুম, সরদার আলী আহমেদ, আ. সালাম, আ. রশিদ, আবু হানিফ, মো. নুরুল হক, হুমায়ন কবির খান, ইজদান আলী খান, মো. হানিফসহ সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা। এ সময় শ্রমিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মীর মোকেসেদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আরব আলী ও স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা।  বিকেলে খালিশপুর পিপলস গোলচত্বরে সরকারি পাটকলগুলোর শ্রমিকরা বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন। একই সাথে বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদ আয়োজিত শ্রমিক জনসভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন শ্রমিক নেতারা। এর আগে আগে জেজেআই, ইর্ষ্টান, আলিম, ক্রিসেন্ট, স্টার, প্লাটিনাম, দৌলতপুর ও খালিশপুর জট মিলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। পরে অনুষ্ঠিত শ্রমিক জনসভাটি জন সমুদ্রে পরিনত হয়।

এদিকে দ্বিতীয় দফার আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে সকাল ১০টায় গেট সভার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ১৫ জানুয়ারি পাট শিল্প অধ্যুষিত জেলা গুলিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টায় লাল পতাকা মিছিল। ২১ জানুয়ারি স্ব-স্ব পাটকলে সকাল ১১টায় রাজপথে লাঠি মিছিল ও ২৪ জানুয়ারি বাসন হাতে ভুখা মিছিল। ২৫ জানুয়ারি সাংবাদিক, পেশাজীবী সংগঠনগুলির সাথে মতবিনিময় সভা। ২৬ জানুয়ারি স্ব-স্ব শিল্প এলাকায় বিকেল ৩টায় শ্রমিক জনসভা। ২৮ জানুয়ারি ৪৮ ঘন্টার হরতাল ও রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল। ৩১ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন শ্রমিক নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ