ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাঁর হাতে বর্ণবাদের পতাকা

তাঁর বক্তব্যে কোনো শান্তির বার্তা নেই, আছে উগ্রতা ও বর্ণবাদের উস্কানি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার মন্তব্য করেন, শুধু শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের আমেরিকায় অভিবাসী হিসেবে আসতে দেওয়া উচিত। গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে কংগ্রেসের একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরো বলেন, হাইতি ও আফ্রিকার মতো ‘জঘন্য’ (তাঁর ভাষায় ‘শিটহোল’) দেশ থেকে মানুষদের কেন আমরা আমেরিকায় আসতে দিচ্ছি? তিনি আরো যোগ করেন, আমাদের উচিত নরওয়ের মতো দেশ থেকে লোকদের আসতে দেওয়া। এশিয়া থেকে আরও অধিক সংখ্যায় অভিবাসী আগমনের পক্ষেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্ববাসী গ্রহণ করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। কংগ্রেসের ডেমোক্রেট সদস্যরা ট্রাম্পের মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কংগ্রেসের ‘ব্ল্যাক ককাস’ যা কৃষ্ণকায় সদস্যদের গ্রুপের প্রধান সেড্রিক রিচমন্ড বলেছেন, এখন আর কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বলেন, ‘আমেরিকাকে আবার মহান কর’, তাঁর সে কথার অর্থ, ‘আমেরিকাকে আবার শুধু সাদাদের দেশ কর।’ উল্লেখ্য যে, হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সত্যতা অস্বীকার করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের একদল রাজনীতিক যেখানে বিদেশের জন্য লড়তে প্রস্তুত, সেখানে প্রসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় আমেরিকান মানুষদের জন্য লড়াই করছেন। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস থেকে আরো বলা হয়, প্রেসিডেন্ট চান, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার, যার অধীনে বিদেশিদের ঢালাও আগমনের অনুমতি প্রদানের বদলে তাদের গুণাবলীর ভিত্তিতে আসতে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন জাগে, ট্রাম্পের আগের সরকারগুলোর সময়ও কি আমেরিকায় ঢালাওভাবে অভিবাসীদের যাওয়ার সুযোগ ছিল? ছিলনা। নানা বিধি-বিধান ও বাধা-নিষেধ মেনেই কেউ আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ পেত। আর ট্রাম্প যখন গুণাবলীর কথা বলেন এবং নরওয়েবাসীর পক্ষে এবং আফ্রিকাবাসীর বিপক্ষে মত প্রকাশ করেন, তখন তার শ্বেতাঙ্গপ্রিয়তা তথা বর্ণবাদী মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমন মানসিকতা বিশ্বে শান্তি নয়, বরং অশান্তিই সৃষ্টি করতে পারে। আমরা তার মধ্যে শুভ বোধোদয়ের জন্য প্রার্থনা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ