ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শীত জেঁকে বসেছে ॥ ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা: আবারও শীত জেকে বসেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে শীতে গরিব মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে (১১ জানুয়ারি) ৬ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং শীতজনিতা রোগে নয়জন সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কুয়াশার কারণে সূর্য দেখা যাচ্ছে না।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া জানান, তীব্র শীতে গত বৃহস্পতিবার পৌরসভার এলএসডি গুদাম এলাকার  দোকান কর্মচারী মো. হাবিলের ৫ মাসের শিশুকন্যা হাবিবা মারা গেছে। তিনি জানান,
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, এই জনপদে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।  বৃহস্পতিবার সকালে সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে উত্তর থেকে ধেয়ে আসা হিমেল হাওয়ার কারণে হাঁড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) 
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত ১ সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও দিনমজুর মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। কাঁথা কম্বল গায়ে জড়িয়ে বিছানায় দেহ নিতিয়ে রয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছে অতিকষ্টে। তারা গরম কাপড়ের অভাবে জড়োসড়ো হয়ে রয়েছে। হিমেল হাওয়ায় জীবন আরো দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দিনের মধ্যভাগে মাঝে মধ্যে রোদের ঝিলিক দেখা দিলেও বিকেলের দিকে কুয়াশায় চারিদিক ঢেকে যায়। তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলের ছিন্নমূল অসহায় পরিবারগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। প্রচ- ঠান্ডায় কমদামী ও গরম কাপড় এবং জুতার দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় উপছে পড়েছে। এ সুযোগে শীতের কাপড় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। কয়েকদিন আগে ওই সব দোকান মালিকরা গালে হাত দিয়ে বসে ছিল। হাঁড় কাপানো ঠান্ডা পরায় তাদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে অফিসগুলোতে তেমন লোকজনের ভিড় দেখা যায় না। ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বাড়িতে বা রাস্তার মোড়ে খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় চলতি শৈত্যপ্রবাহ যেন পিছু ছাড়ছে না। গত ৩ জানুয়ারি থেকে চলে আসা লাগাতার শৈত্যপ্রবাহের পারদ গতকাল চুয়াডাঙ্গাস্থ আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সামাদুল হক কিছুটা বেড়ে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস চলছে বলে জানালেও সারাদিন কুয়াশা ও শীতের মাত্রা এত বেশি ছিল যে মানুষের কাছে তা ছিল অবিশ্বাস্য।  অপর দিকে গত সোমবারের পর গত বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র শীতে আবারো রেললাইন সংকুচিত হয়ে জেলার উথলীতে রেললাইন দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে। উথলী স্টেশনে কর্মরত  পিডব্লিউআই হাবিবুল হক জানান- গতকাল সকাল ৯টার দিকে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী আপ আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি অতিক্রমের সময় ট্রেনের চাকার ঘর্ষণে প্রচণ্ড ঠান্ডায় রেল লাইন সম্প্রসারিত হতে না পেরে উথলী হাইস্কুলের সামনে গোলার নীচের সাইন রেললাইনটি দ্বিখন্ড হয়ে যায়। এই ঘটনায় সকল ট্রেন থামিয়ে ধীরে ধীরে ভাঙ্গাস্থল অতিক্রম করানো হয়, পরে দুপুরে মোবারকগঞ্জ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে রেললাইনটি মেরামত করলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শালিখা (মাগুরা)
শৈত্যপ্রবাহে মাগুরার শালিখায় জনজীবন বিপর্যস্থ  হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতায় শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দী ও কাশিসহ  বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শিশু রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গত ১০/১২ দিনে শালিখা ও মাগুরা হাসপাতালে প্রায় ২শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি  হয়েছে। সকলেই শীত  জনিত রোগে  আক্রান্ত। শীতের  তীব্রতা  বৃদ্ধি  পাওয়ায় বৃদ্ধরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত  হচ্ছে। ফলে তারা মারাক্তক অসুস্থ  হয়ে পড়ছে। শীতের  তীব্রতায়  কৃষকরা মাঠে যেতে পারছে না। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষগুলো পড়েছে আরো বেশি বেকায়দায়। এক দিকে তাদের  সংসার ও অন্যদিকে  বিভিন্ন  এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঋণের কিস্তি  দিতে  হিমশিম খেতে হচ্ছে  তাদের। পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতেও প্রচুর ভীড় জমে  উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ