ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসির ট্রেড লাইসেন্স শাখার ১১শ’ লাইসেন্স পাওয়া অনিশ্চিত!

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ট্রেড লাইসেন্স শাখার (২০১৬-১৭ অর্থবছর) পুরাতন ১১টি লাইসেন্স বই লাপাত্তা হয়ে গেলেও তা পাওয়া নিয়ে অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বই হেফাজতকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চিঠি দিলেও তারা অদ্যাবধি বই জমা দিতে পারেনি। এ বইয়ের বিপরীতে ১১শ’ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। যা থেকে রাজস্ব হাতছাড়া হতে যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।
এদিকে ট্রেড লাইসেন্সের প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে সাত ইন্সপেক্টরকে শোকজ করা হয়েছে। একই অপরাধে অবসরপ্রাপ্ত আরেক ইন্সপেক্টরের অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি কেসিসির সচিব মো. ইকবাল হোসেন তাদের শোকজ করেন। ওই শোকজের জবাব আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর কাজী মনজুর উল আলম (৪ হাজার ৬৮০ টাকা), মনিরুল ইসলাম অপু (৩৫ হাজার ৪৫০ টাকা), হাবিবুর রহমান (২৩ লাখ ৭ হাজার ৭৮ টাকা), সেলিম মল্লিক (১২ হাজার টাকা), মোহাম্মদ আলী (২৯ হাজার দুইশ’ টাকা), শেখ শফিকুল ইসলাম (৯ হাজার একশ’ টাকা) ও হুমায়ুন কবির (২৪ হাজার ৪৫০ টাকা)। এছাড়া খান সফিকুল ইসলাম বাটু (৩ হাজার ১৫০ টাকা) নামের অবসরপ্রাপ্ত আরেক ইন্সপেক্টরকে আইনগতভাবে শোকজ করা না গেলেও তার অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান, শেখ শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী ও হুমায়ুন কবির এই চারজনের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে শোকজ আর বাকী তিনজন মাস্টাররোল কর্মচারী সেলিম মল্লিক, কাজী মনজুর উল আলম ও মনিরুল ইসলাম অপু-এই তিনজনকে কেন চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া যাবে না এ মর্মে কারণ দর্শনো নোটিশ দেয়া হয়েছে।
ওই নোটিশে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্রহণকৃত টাকা ক্যাশে জমা না দিয়ে কেন নিজ হেফাজতে রাখা হয়েছে। যা অর্থ আত্মসাতের সামিল। কেসিসি কর্মচারী চাকরির বিধিমালায় এটা অর্থ আত্মসাতের অপরাধের সামিল। বিধায় স্থায়ী ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না মর্মে শোকজ করা হয়েছে।
কেসিসির সচিব মো. ইকবাল হোসেন বলেন, স্থায়ী চারজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও মাস্টাররোল তিনজন কর্মচারীর চাকরি অব্যাহতি দেয়ার জন্য শোকজ করা হয়েছে। যাদের কাছে ১১টি বই রয়েছে বলে অডিট শাখা রিপোর্ট দিয়েছে।
তাদের মধ্যে মনজুর উল আলমের দু’টি, কাজী শাহেদের-দু’টি, মনিরুল ইসলাম অপুর-চারটি ও হাবিবুর রহমানের-তিনটি বই রয়েছে। এসব বইয়ের খোঁজ এখনও মেলেনি। এদেরও শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে বলে সচিব জানান।
সচিব মো. ইকবাল হোসেন জানান, ইতোমধ্যে ওই শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া আত্মসাতকৃত সব টাকা কেসিসির কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।
ইন্সপেক্টর কাজী মনজুর উল আলম জানান, বই না পাওয়া গেলেও প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে টাকা কম্পিউটারে পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান জানান, মোট আট জনের অডিট আপত্তি এসেছে। অধিকাংশ পরিদর্শক ব্যস্ততার কারণে হিসেবে ভুল করেছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তার নোট শীটের আলোকে এ শাখার নানা অনিয়ম তদন্তে অডিট কমিটি গঠন করা হয়। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অডিট) ইমরান হোসেন তুহিনকে। অন্য দু’সদস্য, হিসাবরক্ষক রওশনারা খাতুন ও সহকারী হিসাব কর্মকর্তা শেখ তুষারত আলী। তবে শুধু এ শাখা নয়, কেসিসির রাজস্ব বিভাগের প্রতিটি শাখায় অডিট করা জরুরি। তাহলে এভাবে অনিয়ম দুর্নীতি বেরিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
অপরদিকে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের অনিয়ম, দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে সংস্থার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিমকে আহ্বায়ক করে ফের তিন সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু ওই কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। এই দু’অর্থবছরের নথিপত্র অডিট করা গেলে আসল থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে অনেকের এমন প্রত্যাশা।
ইন্সপেক্টর শেখ শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি গত অর্থবছরে ২০/২৫ লাখ টাকার মত রাজস্ব আদায় করে দিয়েছেন। এ সময় ব্যস্ততার কারণে তার ভুল হয়েছে। তবে তিনি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ