ঢাকা, রোববার 14 January 2018, ১ মাঘ ১৪২৪, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা কারাগারে তিন তলা থেকে পড়ে কয়েদির মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

খুলনা অফিস: খুলনা জেলা কারাগার অভ্যন্তরের চারতলা ভবনের তিনতলার সিঁড়ির রেলিং’র ওপর থেকে পড়ে কয়েদি মো. নাসিম সরদারের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের নির্দেশে কারা দফতরের খুলনা বিভাগীয় প্রধান (ডিআইজি প্রিজন) টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অপর দু’ সদস্য হলেন সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের সুপার মো. আবু সাঈদ ও বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মো. মোস্তফা কামাল।
‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ খুলনা জেলা কারাগারের প্রধান ফটকেই শোভা পাচ্ছে বিশেষ প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসমূলক এ বাক্যটি। কিন্তু আলোচিত এ বাক্যটি এখন কারাবন্দীদের কাছে অনেকটা অনিরাপদ হয়ে উঠতে শুরু করেছে। কারাভ্যন্তরে বিভিন্ন সময় বন্দীদের ওপর নির্যাতন এবং নানা অজুহাতে অর্থ আদায়ের বিষয়টি আলোচিত হলেও তিন তলার সিঁড়ির রেলিং’র ওপর থেকে পড়ে কয়েদি নাসিম সরদার নিহত হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন বন্দী ও তাদের স্বজনরা। এর আগে বুধবার সকালে কয়েদি নাসিম সরদার জেলা কারাগারের চারতলা বিশিষ্ট ‘রূপসা ভবন’ এর তৃতীয় তলা থেকে পড়ে মারা যায়।
কারা দফতরের খুলনা বিভাগীয় প্রধান (ডিআইজি প্রিজন) টিপু সুলতান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে ১০ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কারাগারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এ কারণে কয়েদির মৃত্যুর সঙ্গে কারাগারের কোন কর্মকর্তা বা কারারক্ষীর দায়িত্ব অবহেলা ছিল কি-না সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি ঘটনার পর পরই তাৎক্ষণিক তদন্ত করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ায় বিষয়টি আবারও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।
কয়েদি নাসিমের ভগ্নিপতি সাদিকুর রহমান রিমন বলেন, তার শ্যালক নাসিম সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার মত কোন অসুস্থ ছিলেন না। বা লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করারও কোন বিষয় ছিল না। এছাড়া তার সাজার মেয়াদও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।
সে ক্ষেত্রে কারাভ্যন্তরের দায়িত্বে থাকা জেলার, ডেপুটি জেলার, সুবেদার এবং কারারক্ষীদের অবহেলা বা পরিকল্পিতভাবেই তাকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে-বলে ধারণা করছেন তিনি। এ কারণে ঘটনার নিরপেক্ষতা যাচাই এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খুলনা কারাগারের জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, কয়েদি নাসিম জেলা কারাগারের চারতলা বিশিষ্ট ‘রূপসা ভবন’ এর তৃতীয় তলায় কয়েদি ওয়ার্ডে ছিলেন। তিনি বুধবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে কারাগারের তিনতলার সিঁড়ির রেলিং থেকে নিচে পড়ে যান।
এতে তার মাথায় আঘাত লেগে রক্তাক্ত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে নেয়া হলে ৮টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কারা দফতরের খুলনা বিভাগীয় প্রধান ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানসহ সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ