ঢাকা, সোমবার 15 January 2018, ২ মাঘ ১৪২৪, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিএনসিসি উপ-নির্বাচনে মেয়রপদে ধানেরশীষ প্রতীকের জন্য ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

গতকাল রোববার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন মেয়র প্রার্থী তাবিদ আওয়াল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করছেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে মেয়রপদে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন মোট ৫ জন প্রার্থী। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কেনেন। তারা হলেন, গতবারের দলীয় মেয়র প্রার্থী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বিএনপি সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম। বিভিন্ন সময়ে প্রার্থীরা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। সকাল সোয়া ১১টায় প্রথম ফরম কিনেন শাকিল ওয়াহেদ এবং এরপর আখতারুজ্জামান।
এ সময়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী জানান, আজ সোমবার নয়া পল্টনের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম ২৫ হাজার টাকা জামানতসহ জমা নেয়া হবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আজ রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ড এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন।
রিজভী বলেন, মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে একজন প্রার্থীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবেন এবং তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। আমরা আশা করছি, সোমবার মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারের পর চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে।
দুপুরে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, আমি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম কিনেছি। আমি আশাবাদী বিএনপির মনোনয়ন আমি পাবো কারণ এই নির্বাচনের প্রথম পর্ব আমাকে সমর্থন দিয়েছিলো। ওই সময়ে দল সন্তোষ হয়েছে আমার নির্বাচন কর্মকান্ড দেখে। এবারো আমি মনোনয়ন নিয়ে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, দল যাকে প্রার্থী করবে শুধু আমি একা নয়, আমরা সবাই মিলিতভাবে এই নির্বাচনে ওই প্রার্থীর জন্য কাজ করবো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে দল থেকে মনোনয়ন কনফার্ম হোক। তারপর আগামী নির্বাচন ও গত নির্বাচন নিয়ে আপনাদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলব। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে আমার কর্মকান্ড দেখে হাইকমান্ড সন্তুষ্ট বলেই আমি মনে করি। এবারো আল্লাহর রহমতে সমর্থন পেলে দলকে এই সিটিতে জয় উপহার দেয়ার চেষ্টা করব।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমি অবিভক্ত ঢাকা নগর থাকতেই আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। ঢাকা বিভক্ত হওয়ার পরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আমার বরাবরই আগ্রহ ছিলো বলেই এবার আমি দলীয় মনোনয়নের জন্য ফরম কিনেছি। আমার লেখা-পড়া, আমরা অভিজ্ঞতা, আমরা সাংগঠনিক পরিচয়-যোগ্যতা-সাহস-ত্যাগ-তীতিক্ষা সব কিছুই মিলে আমার পার্টি বিবেচনা করবেন-এটাই আমরা দৃঢ় প্রত্যাশা।
মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান বলেন, আমি মনে করি, ২০১৮ সাল পরিবর্তনের বছর। পরিবর্তন হবেই। এই পরিবর্তন হবে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। সেজন্য আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনেছি। চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেলে কি করবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এক’শ ভাগ যিনি পাবেন আমি তার পক্ষে কাজ করবো। ম্যাডামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
শাকিল ওয়াহেদ বলেন, আমি ঢাকা উত্তরকে বিশ্বমানের নগরীতে পরিণত করতে এই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছি। আমার যোগ্যতা, দলের প্রতি আমার দীর্ঘদিনের কমিটেমেন্ট-অভিজ্ঞতা ইত্যাদির মান বিবেচনা করে আমার সম্ভাবনা ভালোই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একটা স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করছি। আসুন গড়ি বিশ্বমানের একটা নগর। বিশ্বমানের শহর বলতে আমরা যেগুলো বুঝি প্যারিস, নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলস, সিঙ্গাপুর, সাংহাই এসব। তিনি বলেন, ঢাকাও একটি মেগা সিটি। আমি যদি ঢাকা উত্তরের মেয়র হতে পারি এবং ঢাকার নাগরিকদের যদি আমি সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে ঢাকাকেও আমরা বিশ্বমানের সিটি হিসাবে গড়ে তুলতে পারবো।
বিদেশে থাকা এম এ কাইয়ুমের পক্ষে উত্তরের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুল বাসিত আনজু ও এ জি এম শামসুল হক সাংবাদিকদের কাছে কোনো কথা বলেননি। শুধু নেতা-কর্মীদের নিয়ে তারা বিজয় চিহ্ন ‘ভি’ দেখান।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য এই মেয়র পদে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আনিসুল হক বিজয়ী হয়েছিলেন। যদিও ভোট অনুষ্ঠানের ঘণ্টা তিনেক পরেই বিএনপিসহ অনেক প্রার্থীই কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছিল। অনেকে এটাকে এবতরফা নির্বাচন বলে মনে করেন।
তফসিল অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র কেনা ও জমা দেয়া যাবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আবেদনকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২১ ও ২২ জানুয়ারি। তা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রচার চালানো যায় না। সে অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ