ঢাকা, সোমবার 15 January 2018, ২ মাঘ ১৪২৪, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাজারে ভয়ংকর ক্লোরোফর্ম ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান

সংসদ রিপোর্টার : ভয়ংকর রাসায়নিক পদার্থ ক্লোরোফর্ম অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এজন্য নেই কোন মনিটরিং নেই কোন বিধি-নিষেধ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চেয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি বেগম রওশন আরা মান্নান। গতকাল রোববার সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের বিষয় হিসেবে লিখিতভাবে উত্থাপন করেন। এতে তিনি বলেন, ক্লোরোফর্ম একটি ভয়ংকর রাসায়নিক পদার্থ। এটা কোন রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য অথবা বিভিন্ন গাছ-গাছড়ার নির্যাস বের করতে এই ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ভয়ংকর ক্লোরোফর্ম বিক্রিতে কোন মনিটরিং বিধি-নিষেধ নেই। যে কারণে খোলা বাজারে যে কেউ এই রাসায়নিক পদার্থ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করতে পারে। এই সুযোগটি নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী এবং অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। যার অপব্যবহারের স্বীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এটি একটি মিষ্টি গন্ধযুক্ত পদার্থ। এটি যে কারও নাকে ধরা হলে অজ্ঞান হযে যায় সঙ্গে সঙ্গে। তারপর সর্বস্ব লুট করে তাকে মেরে ফেলা হয়। নোটিশে তিনি বলেন, এভাবে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে, যার হিসাব সব সময় পাওয়া যায় না। খবরের কাগজেও সব সময় এসকল খবর পাওয়া যায় না। এই ক্লোরোফর্ম এর পরিমাণ বেশি নাক দিয়ে গেলে মানুষের আর জ্ঞান ফিরে আসে না এবং মানুষ মারা যায়। নোটিশে তিনি দাবি করেন,অবিলম্বে সরকারকে এ বিষয়ে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করে ডাক্তার বা ল্যাবরেটরির মাধ্যমে বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এর বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। মিথ্যা ছাড়পত্র নিয়ে অসাধু ব্যবসায়িরা যাতে আমদানি করতে না পারে তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টিকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা আসলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালযের অধীনে নয়। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। তারপরও এটা জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর দায় আমাদেরও রয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আমরা ক্লোরোফর্ম আমদানি, বিপণন ও বিতরণে কঠোর মনিটরিং করতে অনুরোধ জানাতে পারি। পাশাপাশি সিভিল সার্জনকে দিয়ে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মনিটরিং করতে পারে। মন্ত্রী জানান, ক্লোরোফর্ম অবৈধভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এগুলো নিয়ন্ত্রণ হওয়া প্রয়োজন। পরে ডেপুটি স্পিকার সংশ্লিষ্ট এমপিকে বাণিজ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ের ওপর আরেকবার নোটিশ দেয়ার পরামর্শ দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ