ঢাকা, সোমবার 15 January 2018, ২ মাঘ ১৪২৪, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত

তাড়াশ : কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত একটি বীজতলা -সংগ্রাম

তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে শাহজাহান: চলনবিলের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে মাজায় কোমর বেঁধে বোরো আবাদে মাঠে নেমেছিল। তীব্র শীত ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ক্ষেতের ফসল মরে যাচ্ছে। এতে ইরি বোরো আবাদ নিয়ে চাষিরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
দ্বিতীয় দফায় চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায়  চলনবিলের তাড়াশ  উপজেলার সর্বত্র বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’তে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে হলুদ হয়ে বোরো চারা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এ কারণে চাষিরা তাদের বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এ উপজেলায় এবার ২৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য কৃষকরা তাদের  ১২০০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছেন কিন্তু ১৫ দিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে উপজেলার অধিকাংশ বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের আলাউদ্দিন জানান  ‘এবার  তিন  একর জমিতে বোরো আবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে মোতাবেক আগাম প্রস্তুতি হিসেবে  এক একর  জমিতে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু দুই দফায় টানা ১০ দিনের শৈত্যপ্রবাহের ফলে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার সমস্ত চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। আপ্রাণ চেষ্টা করেও বীজতলা ভালো রাখতে পারছি না।’
একই কথা বলেন, উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম,আবু বকর সিদ্দিক,আঃ সোবহান,  গ্রামের বোরো চাষি আব্দুল মালেকও।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  সাইফুল ইসলাম  বলেন, ‘দুই দফার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে উপজেলার কিছু বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। বোরো চাষিদের প্রতিদিন ভোরে বীজতলার পানি পরিবর্তন, চারার আগা থেকে শিশির ফেলে দেওয়া, রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা  ছাড়াও বীজতলার ধানের চারার গোড়া পর্যন্ত ছাই দিয়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত বীজতলায় থিয়োভিট জাতীয় ওষুধও স্প্রে করা প্রয়োজন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ