ঢাকা, সোমবার 15 January 2018, ২ মাঘ ১৪২৪, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত টিন শেডটি উদ্বোধনের আগেই ভেঙ্গে গেছে

মফিজ জোয়ার্দ্দার, (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের সবজী বাজারে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত টিন শেডটি উদ্বোধনের আগেই ভেঙ্গে গেছে।
হারদী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সোহরাব উদ্দিন জানান, বিগত হারদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সাত্তার ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সদস্য রাফেজা এবং চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামের উদ্যোগে এই টিন শেডটি নির্মাণ করা হয়। এই শেডটি নির্মাণ করা হয় কর্মসৃজন, টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও এলজিএসপির অর্থায়নে। এ ধরনের কাজ এ সকল প্রকল্পের টাকায় করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামই জানে।
বাজারের আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ব্যয় করে উন্নয়ন কাজ করে থাকেন। ওই কাজগুলো বাইরের কোন ঠিকাদারদের দিয়ে তিনি করায় না। হারদী গ্রামের মরহুম রসুল বিশ্বাসের ছেলে ও চেয়ারম্যানের আপন ভাই কামরুল ইসলাম এবং চেয়ারম্যানের বড় ভাই ডাবলুর ছেলে শামসুল আলম এই কাজগুলো করে। এ কারণে প্রত্যেকটি কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হলেও কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, অনিয়মের মাধ্যমে এই কাজগুলো করার পিছনে বড় মাপের দুর্নীতি লুকিয়ে আছে। এগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
অপরিকল্পিত ও অনিয়মের মধ্যে অর্থায়ন করে হারদী বাজারে টিন শেড নির্মাণের বিষয়ে হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা এভাবেই অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। টিন শেডটি নির্মাণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। এরপর তিনি এ প্রতিবেদককে এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য বলেন। সঠিক কাজ হয়নি, সেটার সংবাদ কেনো করা যাবে না; এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে সমস্যা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত মান্নান এ বিষয়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘আরে আপনি এ কাজে অপরিকল্পিত ও অনিয়ম কোথায় দেখলেন ? হারদী ইউনিয়নের কাজগুলোকে আমরা অন্যান্য ইউনিয়নকে অনুকরণ  করতে বলি। আর আপনি বলছেন উল্টো।’ এর কিছুক্ষণ পর আবার তিনি মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়েছি, ওই কাজে একটু সমস্যা হয়েছে। ওটার ব্যাপারে নিউজ করার দরকার নেই। নিউজ করলে ওরা ভলো কাজ করতে চাইবে না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ