ঢাকা, মঙ্গলবার 16 January 2018, ৩ মাঘ ১৪২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য সরকারকে বাধ্য করতে সারাদেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। এসময় খালেদা জিয়ার মামলাগুলো নিয়মিত আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। রোববার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় খালেদা জিয়াকে এসব পরামর্শ দেন তারা। সভায় প্রায় ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বৈঠকে খালেদা জিয়াকে কয়েকজন বুদ্ধিজীবী পরামর্শ দিয়ে বলেন, সারা দেশে বিএনপির সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি অতিদ্রুত দিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল এবং ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়ে দেওয়ারও পরামর্শ দেন তারা। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিতে সরকারকে বাধ্য করতে সংগঠন শক্তিশালী করার বিকল্প নেই বলেও খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক প্রো ভিসি আ ফ ম ইউছুফ হায়দার, গণস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আকতার হোসেন, অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক সদরুল আমীন, ইব্রাহিম খলীল, ডিউইজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে আরো জানা যায়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী খালেদা জিয়াকে মামলার বিষয়ে পরামর্শ দেন। তিনি বলেছেন, ম্যাডাম আপনি আপনার মামলাগুলো নিয়মিত কোর্টে শুনানির ব্যবস্থা করেন। আপনার মামলা বিশেষ আদালতে নেওয়া সরকারের একটি কৌশল মাত্র। প্রতিদিন আপনাকে বিভিন্ন কর্মকা- থেকে দূরে রাখা ছাড়া আর কিছু নয়। জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে বুদ্ধিজীবীরা আবারও বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরামর্শ দেন। জবাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনও তাদের জানান, তিনি যোগাযোগ রাখছেন। বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ তাকে এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে খালেদা জিয়ার ঢাকার বাইরে সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ডা. জাফরুল্লাহ তাকে মাঘ মাসের পর ঢাকার বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সকলের পরামর্শ শুনে দলীয় ফোরামে এ সকল সিদ্ধান্ত নিবেন বলে বুদ্ধিজীবীদের আশ্বাস দিয়েছেন খালেদা জিয়া।
আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠকে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সদরুল আমীন বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন যাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সবাই তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়ে জানিয়ে সদরুল আমীন বলেন, ডিএনসিসির প্রার্থী প্রসঙ্গে ম্যাডাম বলেছেন আমি যোগ্য প্রার্থীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবো যিনি জয়ী হতে পারবেন।
বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী আরও বলেন, আমার বক্তব্যে ম্যাডামকে চিন্তা ভাবনা করে কাজ করার কথা বলেছি। দলটি আরো সংগঠিত করা ও শক্তি সঞ্চারের কথাও বলেছি। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ থাকতে হবে রিজিট অবস্থানে থাকলে হবে না এমন কথাও ম্যাডামকে বলেছি।
বৈঠকে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, আমি বলেছি ম্যাডাম যে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। ডিএনসিসি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার কথা বলেছি। আমার ধারণা এটা ম্যাডামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ