ঢাকা, মঙ্গলবার 16 January 2018, ৩ মাঘ ১৪২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিএনসিসি উপ-নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উপ-নির্বাচনে ভোটাররা আদৌ ভোট দিতে পারবে কি-না তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা ও সন্দেহ রয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুওে  রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়াজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারি দল যেভাবে কথা বার্তা বলছে, যেসব আচরণ করছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
 ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচন মানে ভোটারদের ভোটের অধিকার হরণ করা। তারপরও সংকুচিত গণতন্ত্রকে সম্প্রসারণ করতে আমরা যতটুকু সুযোগ পাচ্ছি আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কিন্তু কোথাও সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না।
জনগণের ভোটারাধিকার নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উপ-নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, অতীতের সব নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মহড়া দেশবাসী দেখতে পেয়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আমরা দেখেছি। যেখানে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। যেমনভাবে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দানবীয় কায়দায় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। আজও যা দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো দাবি রাখছি, সরকারের শুভ বুদ্ধির যদি উদয় হয় তাহলে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে তাদের উদ্যোগী হতে হবে। সশস্ত্র ক্যাডাররা যাতে মানুষের ভোটাধিকার যাতে কেড়ে না নিতে পারে সেজন্য আমি আবারো সেনা মোতায়েনের করতে হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমি আবারো দাবি জানাচ্ছি, উত্তর সিটি নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোতায়েন করে মানুষের মধ্যে ভীতি-সংশয় দূর করে ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে – সেই এই নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। উত্তর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরক্ষনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের ৭দিন আগে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
রিজভী বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনরে অধীনে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনসহ কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। তারা সরকারের কর্মচারি হিসেবে হুকুমের দায়িত্ব পালন করে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী কে হবেন- তা দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গতকাল রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহন চলছিল। বৈঠক শেষেই কে মেয়র পদে ধানের প্রতীকে প্রার্থী হবেন তা চূড়ান্ত করে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথম তাবিথ আউয়াল নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হাতে তার মনোনয়ন ফরম জমা দেন। সঙ্গে জামানত হিসেবে জমা দেন ২৫ হাজার টাকা।এরপর দলের বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ, সাবেক সাংসদ অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান (রঞ্জন)ও নিজে এসে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। ঢাকা উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুমের বিদেশে অবস্থান করায় তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসানুল্লাহ হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ জি এম শামসুল হকসহ নেতৃবৃন্দ।
এ সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সামগ্রিকভাবে এক পরিবর্তন করাই হচ্ছে আমার প্রত্যাশা। মনোনয়নের বিষয়ে নিসন্দেহে বিবেচনা করার মালিক পার্টি। আমাদের পার্টি গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতায় বিশ্বাস করে। আমি ফরমে আমার সব কিছু লেখেছি, আশা করি দল বিবেচনা করবে। আমরা যারা প্রার্থিতার জন্য আবেদন করেছি, তারা সবাই যোগ্য। আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আমাদের দল সব কিছু বিবেচনা করে এটা চূড়ান্ত করবে।
শাকিল ওয়াহেদ বলেন, আমি আশাবাদী এই কারণে যে দল সামগ্রিকভাবে একটা যথাযথ মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আয়োজন করেছে। আজকে আমি জমা দিয়েছি। রাতে মনোনয়ন বোর্ডের সম্পুখীন হবো। আমরা সবাই যোগ্য। এখন দেখার বিষয় সব কিছু বিবেচনা করে আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব একজনকে বাছাই করবেন- এই আস্থা আমার রয়েছে। আখতারুজ্জামান (রঞ্জন) বলেন, মনোনয়ন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি তা মাথা পেতে নেবো।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য এই মেয়র পদে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ