ঢাকা, মঙ্গলবার 16 January 2018, ৩ মাঘ ১৪২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একটা কথা কেন বার বার জিজ্ঞাসা করেন, আমি জানি না

স্টাফ রিপোর্টার : ডিআইজি মিজানুর রহমানকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল ও কলেজে অসহায়দের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করেন তাকে। তিনি বিরক্তির সুরে বলেন, “একথা অনেকবার বলেছি, আপনারা একটা কথা কেন বার বার জিজ্ঞাসা করেন, আমি জানি না। একটা কথা বারবার জিজ্ঞেস করার অর্থ আমি বুঝি না।”
ঘরে স্ত্রী রেখে এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানের বিরুদ্ধে। পুলিশ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে ডিএমপি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
আছাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়, আমি বারবার এটা বলেছি। পুলিশ একটি পেশাদার বাহিনী। এখানে অন্যায়ভাবে কিছু করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। “আপনারা জানেন যে বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত হওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ এ বিষয়ে অবহিত হয়েছেন।”
ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত আইজিপি মঈনুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে এটা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে, অনুসন্ধান করে, সকল পক্ষের বক্তব্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। “প্রতিবেদনে যদি অসততা, ক্ষমতা বহির্ভূত, আইন বহির্ভূত কাজ প্রমাণিত হয়, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “আমরা বলব- একটি ঘটনার নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু তদন্ত করার সুযোগ আপনারা (সাংবাদিক) দেবেন। “কিন্তু আপনারা একটি জিনিসকে বারবার এনে যদি একটি মিডিয়া ট্রায়াল করার চেষ্টা করেন বা একটি নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, সেটাও ন্যায়বিচারের জন্য সঠিক হবে না বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।” বাহিনীর কর্মকর্তা মিজানকে নিয়ে পুলিশের তদন্ত ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ’ হবে বলে তাতে আস্থা রাখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশের সদস্যদের বিষয়ে বাহিনীর তদন্ত নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে; এজন্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্য সংস্থাকে দিয়ে করানোর আহ্বানও জানিয়ে আসছেন অনেকে। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিআইজি মিজান দুই সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে; সে বিষয়ে সাংবাদিকদের জিডিও থানা পুলিশ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ।
ডিএমপি কমিশনার এ বিষয়ে বলেন, “থানায় কেউ জিডি করতে গেলে জিডি নেয়ার কথা। যদি কোনো কারণে জিডি না নেয়া হয়, তার উপরস্থ স্তরে অভিযোগ করা যেতে পারে।”
সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি শুনে আছাদুজ্জামান বলেন, “আমি পুলিশ কমিশনার- আমি তো কারও কাছ থেকে অভিযোগ পাইনি যে থানায় গিয়েছে, জিডি নেয়নি। আইজিপি অফিসেও এ ধরনের কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি।”
পুলিশের পক্ষ থেকে শীতার্তদের সহায়তার দিকটি দেখিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমরা আপনাদের লোক। আমরা ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলের অত্যাচারী পুলিশ না। আমরা জনবান্ধব পুলিশ। “আমরা শুধু চোর-ডাকাত দমন করি, এমনটি নয়। আমাদের মানবিক গুণাবলী রয়েছে। প্রতিবছর আমরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় শীতবস্ত্র দেই, ঈদের সময় কাপড় দেই। ঝড়-বৃষ্টি অগ্নিকান্ড এসব বিষয়ে সবার আগে ছুটে আসি। আমরা আপনাদেরই ঘরের সন্তান।” তাই বলছি ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তিন সদস্য নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কোনো থানায় গিয়ে সেবা না পেলে কমিশনারকে জানানোর অনুরোধ করেছেন ডিএমপি কমিশনার। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ জনমানুষের সেবা দিতে বাধ্য। থানা হচ্ছে মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র। যদি কেউ থানায় গিয়ে সঠিক সেবা না পান, তবে আমাদের জানাবেন আমরা ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, পুলিশ জনমানুষের কল্যাণের জন্য। পুলিশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পুলিশ। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যদি কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে আইনের মাধ্যমেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিএমপির থানার ওসিদের উদ্দেশ্যে কমিশনার বলেন, কোনো মানুষ যাতে থানায় গিয়ে অবহেলিত না হয়। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন। তাদের যথাযথ সেবা দিবেন। আপনারা অসহায় মানুষের পক্ষে কাজ করবেন, কারণ থানা মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র।
জঙ্গি ও মাদক দুটিই পুলিশের শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি। মাদক সেবী ও বিক্রেতাদের সম্পর্কে আমাদের তথ্য দিন, প্রয়োজনে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রেখে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করবো। যদি কোনো পুলিশ সদস্যও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ