ঢাকা, মঙ্গলবার 16 January 2018, ৩ মাঘ ১৪২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চতুর্থ দফায় বিব্রত হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ দলীয় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিটের শুনানিতে ফের বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এই নিয়ে চতুর্থ দফায় এই রিটে বিব্রতবোধের ঘটনা ঘটলো।
গতকাল সোমবার বিচারপতি ফরিদ আহমেদের একক বেঞ্চ এই রিটের শুনানিতে বিব্রত হন।
বিব্রতবোধ করায় রিট আবেদনের নথি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি এ মামলা নিষ্পত্তির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।
২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক রুল যথাযথ ঘোষণা করে নিজাম হাজারীর এমপি পদে থাকা অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান রুল খারিজ করে দেন। এরপর নিয়ম অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে মামলা নিষ্পত্তির জন্য তিনি একক বেঞ্চ গঠন করে দেন।
এ মামলায় নিজাম হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্যরঞ্জন মন্ডল। সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারী এটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী।
আইনজীবী সত্যরঞ্জন মন্ডল বলেন, আদালত এ মামলার শুনানি নিতে বিব্রত বোধ করেছেন। এ মামলার শুনানিতে এর আগেও কয়েকবার আদালত বিব্রত বোধ করেছেন।
এরআগে গত ১২ নবেম্বর নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিটের শুনানি গ্রহণে বিব্রতবোধ করেন হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া। তার আগে মামলাটি বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের একক বেঞ্চে দেয়া হলে রিট আবেদনকারী আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন।
‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।
রিট আবেদনকারীর বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন তাহলে মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না।
২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় দুটি ধারায় ১০ বছর ও সাত বছর কারাদন্ড হয় নিজাম হাজারীর, আপিলেও এই সাজা বহাল থাকে। সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলেও তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হন।
এই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ৮ জুন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে জানতে চান নিজাম হাজারী কোন কর্তৃত্ববলে সংসদ সদস্য পদে আছেন? একইসঙ্গে তার আসনটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয়।
ওই রুলের উপর শুনানি নিতে ২০১৫ সালের ১২ নবেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের এক বিচারপতি এবং পরে ২ ডিসেম্বর অন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ বিব্রতবোধ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ