ঢাকা, মঙ্গলবার 16 January 2018, ৩ মাঘ ১৪২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে শীতে মধু সংগ্রহে ধস মৌমাছির মৃত্যুতে চাষিরা হতাশ

শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে: সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিলে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় মৌমাছি মারা যাচ্ছে। এতে মৌ-চাষিরা হতাশার মধ্যে নিাতিপাত করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মওসুমের শুরুতে ইউরোপিয়ান হাইব্রিড এপিস মেলিফেরা মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা বিলাঞ্চল। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি উড়ে গিয়ে সরিষা ফুলে বসে আর মধু নিয়ে ফেরে মৌ-বাক্সে। কিন্তু শীত বাড়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা ও প্রবল শৈত্যপ্রবাহের কারণে মৌমাছিরা বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। বের হলেও আর ফিরছে না। প্রচ- ঠান্ডায় বেশির ভাগ মৌমাছি মারা যাচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা চলনবিলের ছয় শতাধিক মৌ-চাষির এখন মাথায় হাত। মৌমাছির মৃত্যু আর লোকসান তাদের হতাশ করে তুলেছে। 

চলনবিল এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে আসা আলম শিকদার বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর ধরে মধু আহরণ করছি। কিন্তু এবার মাত্র কয়েক দিনের শীত ও শৈত্যপ্রবাহ সর্বনাশ করেছে। গত বছর দুই টন মধু আহরণ করেছি, এবার এক টনের বেশি সংগ্রহ করা যাবে না।’

বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া মৌ-চাষিরা বলেন, ‘বাক্সের অধিকাংশ মৌমাছি মারা গেছে। ফলে এবার মধু সংগ্রহে বিপর্যয় ঘটেছে।’ 

উত্তরাঞ্চল মৌ-চাষি সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চলতি মওসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলনবিল থেকে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টন মধু আহরণের সম্ভাবনা ছিল। প্রায় এক মাস আগে বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ছয় শতাধিক প্রশিক্ষিত মৌ-খামারি চলনবিলে অস্থায়ী আবাস গেড়েছেন। মৌ-চাষিরা সরষে ক্ষেতের আলে ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার মৌ-বাক্স বসিয়েছেন। প্রতিবছর নবেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সরষে ফুলের মধু আহরণ চলে। এ সময়ে প্রত্যেক মৌ-চাষি গড়ে দুই থেকে আড়াই টন মধু আহরণ করতে পারেন। কিন্তু এবারের শীত আর শৈত্যপ্রবাহ মৌ-চাষিদের সর্বনাশ করেছে। সব মিলিয়ে ৫০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করাই দুরূহ। তার ওপর বাড়তি দুশ্চিন্তা মারা যাচ্ছে অসংখ্য মৌমাছি।’ 

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণ মৌ-বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছিল মৌ-চাষিরা। এ অঞ্চলে উৎপাদিত ভেজালমুক্ত মধুর মান খুবই ভালো। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের নামিদামি কোম্পানির এজেন্টরা চলনবিলের মাঠ থেকে অপরিশোধিত মধু অগ্রিম কেনা শুরু করে। নবেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে এখানে মধু সংগ্রহ পুরোদমে শুরু হয়, চলে পুরো জানুয়ারি মাস। কিন্তু এবার মৌ-চাষিদের আশা ধূলিসাত করেছে প্রতিকূল আবহাওয়া।’ 

তাড়াশে মাছ সংকট

চলনবিলের তাড়াশ উপজেলা দেশের মৎস্য উৎপাদনের শ্রেষ্ঠ স্থান হইলেও তীব্র শীতে এলাকাবাসীরা মাছ সংকটে পড়েছে। তীব্র শীতে জেলে ও মৎস্যজীবীরা খাল-বিল ও নদী-নালায় মাছ ধরতে পারছেন না। এতে উপজেলার হাট-বাজারে প্রচ- মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মাছ ধরতে না পারায় এক শ্রেণির জেলে ও মৎস্যজীবীরাও বেশ অভাব-অনটনে ভুগছেন।

উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী চলনবিল বিলসহ হাজার হাজার খাল-বিল এবং নদী-নালা ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন অসংখ্য মৎস্য খামার ও পুকুর রয়েছে। উপজেলার জেলে ও মৎস্যজীবীরা ওই সকল খাল-বিল, নদী-নালা এবং মৎস্য খামার ও পুকুর থেকে মাছ ধরে উপজেলার হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু গত ১০/১৫ দিনের তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলে ও মৎস্যজীবীরা খাল-বিল ও নদী-নালা থেকে মাছ ধরতে পারছেন না। ভুক্তভোগী জেলে আঃ হামিদ বলেন, তীব্র শীত ও চলতি শৈত্যপ্রবাহে খাল-বিলের পানি বরফের মতো ঠা-া হয়ে গেছে। সে কারণে গ্রাম-গঞ্জের মৎস্য খামার ও পুকুরে চাষ করা মাছ ধরা গেলেও খাল-বিল ও নদী-নালায় প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আর প্রাকৃতিভাবে মাছ ধরতে না পারার কারণে একদিকে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনে রয়েছেন। অন্য দিকে, হাট-বাজারে প্রচ- মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা বলেন, প্রচ- শীতে জেলেরা মাছ না ধরায় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। চাষ করা মাছেরও মাত্রাতিরিক্ত দাম। আগে প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প মাছ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ওই মাছ প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ