ঢাকা, বুধবার 17 January 2018, ৪ মাঘ ১৪২৪, ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুমেক হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাতে সাধারণ রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ওষুধ প্রতিনিধিদের কারিশমা আর ডাক্তারদের বাণিজ্যিক মনোভাবে চিকিৎসা সেবা প্রশ্নবিদ্ধ। ওষুধ প্রতিনিধিদের হাসপাতালে আউটডোর-ইনডোরের ডাক্তারদের রুমে সার্বক্ষণিকের যাতায়াত রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিট করা নিয়ে রোগীদের সাথে হচ্ছে হাতাহাতি ও লাঞ্ছিতের ঘটনা।
মেডিসিন ইউনিট-২ এ গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ৬-৭ জন ওষুধ প্রতিনিধি। দরজার বাইরে রয়েছে ওষুধ প্রতিনিধিদের ব্যাগও। ভর্তি এক রোগীর স্বজন ভেতরে ঢুকে ডাক্তারের পরামর্শ নেবে তারও কোন উপায় নেই। হাসপাতালে প্রায়ই ওয়ার্ডের ডক্টরদের রুমে এই একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। ডাক্তারদের রাউন্ডের সময় রোগীর স্বজনরা এলাও না হলেও ওষুধ প্রতিনিধিরা ঠিকই ঢুকে যাচ্ছেন। মিডিসিন ইউনিট-৪ এর একই চিত্র রয়েছে। ওই ওয়ার্ডে যেদিন রোগীর ভর্তির দিন সেখানে সকাল থেকে রাত অবধি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আগে থেকে এসে বসে থাকেন। সাধারণ রোগীরা দেখলেও ভয়ে কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পাননা। মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. স্বরুপ চন্দ্র পোদ্দারের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে অশোভন আচরণসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
খুমেক হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকালে এক মহিলা রোগীকে (স্ট্রোকজনিত) ভর্তি করার পর চিকিৎসকের টেবিলের সামনে ওষুধ প্রতিনিধিদের তাদের কোম্পানির ওষুধ লেখা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। এ অবস্থা দেখে প্রতিবাদ করায় ওই রোগীর স্বজনকে মারার জন্য তেড়ে আসেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এর আগে শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগী দেখার সময় ডাক্তারের চেম্বারে ভিজিট করার প্রতিবাদ করায় এক রোগী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে কিছু অসাধু চিকিৎসক আর্থিকসহ বিভিন্ন সুবিধা নেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করার নজির নেই। মাঝেমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি হওয়ার পর কিছুদিন নীরব থাকলেও পরে একই চিত্র দেখা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ