ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 January 2018, ৫ মাঘ ১৪২৪, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইনগতভাবে তদন্ত করলে টাকা আত্মসাতের কোনও উপাদান পাওয়া যেত না -আইনজীবী

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল বুধবার বকশিবাজার বিশেষ আদালতে হাজির হন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১৮ই জানুয়ারি বৃস্পতিবার বিএনপির চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এ কারণে মামলার হাজিরা থেকে তার অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। এই আবেদন মঞ্জুর করলেও অন্য আসামীদের পক্ষে আদালত চলবে বলে বিচারক আদেশ দেন। তখন খালেদা জিয়া জানান, যেহেতু বৃহস্পতিবার আদালত চলবে, সেহেতু তিনি আদালতে যাবেন। তিনি বলেন, এই মামলাটি আমি আইন দিয়ে মোকাবিলা করছি, তাই আদালতে আসবো।
এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বুধবার আসামী শরফুদ্দীনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। আদালতে তিনি বলেন, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনগড়া তদন্ত করেছেন। তিনি আইনগতভাবে যদি তদন্ত করতেন, তাহলে টাকা আত্মসাতের কোনও উপাদান পেতেন না। যুক্তি উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে শরফুদ্দীন আহমেদের আইনজীবী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন,আজকে ৬৫ বছরের একজন সন্তানহারা মাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিদিন আদালতে এনে হয়রানি করা হচ্ছে।
বকশীবাজার এলাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ভবনে বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলার  বিচারকাজ চলছে। বুধবার বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া।
এরপর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খালেদা জিয়ার মায়ের মৃতুবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাকে অব্যাহতির আবেদন করলে, আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে অন্য আসামীদের পক্ষে আদালত চলবে বলে আদেশ করেন। পরে খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, যেহেতু আগামীকাল আদালত চলবে, সেহেতু তিনি আদালতে আসবেন। তিনি বলেন, এই মামলাটি আমি আইন দিয়ে মোকাবিলা করছি, তাই আগামীকালও (আজ) আদালতে আসবো।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আজ অন্য আসামিদের যুক্তিতর্ক হয়েছে। গতকাল বিকেলে বিচারক আজ সকাল পর্যন্ত মামলা মুলতবি করেন।
আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, বিজ্ঞ আদালত মামলার আতঙ্কে এবং মানসিক চাপে অনেকে অসুস্থ হয়ে গেছে। আপনার বয়স কত আমি জানি না। তবে এখানে অনেক আসামীর বয়স ৬০ বছরের ওপরে।
আর এ বয়সে জেলে থেকে কাপড়ে প্রস্রাব পায়খানা করলেও বুঝতে পারে না। ওই আইনজীবী বলেন, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সেনা অফিসারের ছেলে তারেক রহমান। স্বাধীনতা যুদ্ধে যার অবদান ছিল আকাশচুম্বী। তারেক রহমান ছিল নাবালক ছেলে। অথচ এসব ভুয়া মামলায় তাকে হাত দুটি উঁচু করে বেঁধে নির্যাতন করা হলো। যার কারণে উনার পিঠের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি মনে করি অসুস্থতার মধ্যে হাঁড়ের ইনজুরি সবচেয়ে বেশি কষ্টকর। বিজ্ঞ আদালত,আমি কোনো রাজনীতি করি না। কিন্তু এটা বিশ্বাস করি এতবড় একটা দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে দুই কোটি টাকা আত্মসাত করতে হবে?
আইনজীবী আহসান উল্লাহ এ সময় একটি গল্প উপস্থাপন করে বলেন, কিছু শিশু একটি পুকুরের ভাসমানকে ব্যাঙকে লক্ষ্য করে ইট মারছে। এ সময় হঠাৎ ব্যাঙের জবান খুলে গেলে। ব্যাঙ বলল, বাচ্চারা আমায় ইট মারছ কেন? তখন বাচ্চারা জবাব দিল মজা করে মারছি। এ সময় ব্যাঙ বলল, তোমাদের মজায় যে আমার প্রাণ যায়! এখানে ও মামলা  খেলায় এ পর্যন্ত তিনজনের প্রাণ গেল। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ তদন্ত করার সময় নিজেই স্বীকার করেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী হয়েছে এবং ডিড হয়েছে। ট্রাস্টের নামে যে জমি কেনা হয়েছে, তাও প্রতিষ্ঠিত। এখান থেকে একটি টাকাও আত্মসাত করা হয়নি; বরং দুই কোটি টাকা এখন ব্যাংকে বৃদ্ধি পেয়ে ছয় কোটি টাকা হয়েছে। টাকা অব্যয়কৃত ছিল। টাকা যদি ব্যয় হতো, সুদ তুলে খেত অথবা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যয় করলে অপরাধ হয়। কিন্তু এখানে তো কিছুই হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তদন্তও করতে পারেনি।
কাঁদলেন আইনজীবী, চোখ মুছলেন বেগম জিয়া
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী আহসান উল্লাহ যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে বলেন, কোনো নথি ছাড়া হাওয়ার ওপরই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা মামলা খেলায় বেগম জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ এ পর্যন্ত তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। যে সন্তান হারায় সে বোঝে সন্তানের ব্যথা কী জিনিস। এ সময় আইনজীবী আহসান উল্লাহ কেঁদে ফেলেন। এ সময় বিচারকের সামনে বসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও কেঁদে ফেলেন। তাঁকে একাধিকবার চোখ মুছতে দেখা যায়। এ সময় আদালতের পরিবেশ কিছুটা ভারি হয়ে ওঠে।
আইনজীবীর উল্লেখ করা প্রাণ হারানো তিনজন হচ্ছেন, খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, শরাফ উদ্দিনের ছেলে সাইয়েদ আহমেদ ও একজন আইনজীবী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ