ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 January 2018, ৫ মাঘ ১৪২৪, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভরাডুবি নিশ্চিত জেনেই সরকার নিজেদের লোক দিয়ে সিটি নির্বাচন স্থগিত করেছে -ড. মোশাররফ

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পেছনে সরকারের হাত আছে। তিনি বলেন, সরকার নিজের লোক দিয়ে রিট করিয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। ভরাডুবির ভয়ে এমনটি করা হয়েছে বলেও দাবি তার। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান খন্দকার মোশাররফ।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র ও শহীদ জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে দলগুলো যখন প্রার্থী বাছাই করে ফেলেছে তখন ভাটারা এবং বেরাইদ ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যানের আবেদনে বুধবার ভোট তিন মাস স্থগিত করে হাইকোর্ট।
‘কী সুন্দর খেলা!’ এমন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ডিএনসিসি উপ-নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের গোয়েন্দা রিপোর্ট আগেই সরকারের হাতে এসেছে। এসব রিপোর্টে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির চিত্র ফুটে উঠেছে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পরাজয় শুরু হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমাদের জয় শুরু হয়েছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের এমন শোচনীয় পরাজয় হবে যে, তাদের প্রার্থীদের জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।
সাবেক এই স্বাস্থ্য মস্ত্রী বলেন, আমরা বলতে চাই, আওয়ামী লীগের যে পরাজয় শুরু হয়েছে, তাদের এই পরাজয় একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কেউ রুখতে পারবে না, তা অব্যাহত থাকবে। আগামী নির্বাচন নিয়ে মোশাররফ বলেন, মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমরা নির্বাচনে যাব। তবে শেখ হাসিনার অধীনে নয়। নিরপেক্ষ নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারে অধীনে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।
দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কোনোভাবেই সাজা দেয়া যাবে না মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, খালেদা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।
জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন অবদান প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, জিয়াউর রহমান বাকশালের খাঁচা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করেছিলেন। এখন গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দী। তাই আজকে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনে নেমেছে। জিয়াউর রহমানের জীবনের অর্জন তিনটি- তিনি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের সংগঠক। তিনি আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সমাজভিত্তিক করে গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ তখন তলাবিহীন ঝুড়ি ছিল। জিয়াউর রহমান খাল কেটেছেন, রাখাল রাজা হয়েছেন। ঢাকায় যখন তার জানাজা হয়, তখন মানুষের ঢল দেখে বোঝা যায়, জিয়াউর রহমান কতটা সফল ছিলেন। জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়। কারণ উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে জিয়াউর রহমানের অবদান নেই।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ইবরাহীম, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবিএম মোশারফ হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ