ঢাকা, শনিবার 20 January 2018, ৭ মাঘ ১৪২৪, ২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হঠাৎ করে কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা হতাশ

খুলনা অফিস : কোন কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, যে মুহূর্তে পাট সেক্টরে ব্যবসা ফিরে এসেছে, সেই মুহূর্তে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞাজারী করা হল। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কাঁচা পাট সেক্টর চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা করা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে দেশের পাট সেক্টরে বিপর্যয় বয়ে আনবে। কমে যাবে পাটের মূল্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। এতে ব্যবসায়ীরা হতাশ। এর আগেও ২০০৯ সালে এবং ২০১৫ দু’দফায় পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞাজারীর ফলে অনেক রফতানিকারক ও ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়েছে, বাংলা তোষা রিজেকশন (বিটিআর), আনকাট এবং বাংলা হোয়াইট রিজেকশন (বিডব্লিউআর) এই তিন ধরনের কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে আরো বলা হয়, নতুন আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এই তিন ধরনের কাঁচা পাটের রফতানি বন্ধ থাকবে। তবে অন্য সব ধরনের কাঁচা পাট রফতানিতে কোনো বাধা নেই। এর আগে পণ্যে পাটের মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালের ৩ নবেম্বর এক মাসের জন্য সব ধরনের কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। এক মাস পর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে আবার পাট রফতানির পথ তৈরি হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পাটকাঠি থেকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর রোদে শুকিয়ে সরাসরি যে পাট পাওয়া যায় তাকে বলা হয় আন-কাট। তাতে ভালো-মন্দ সব অংশই থাকে। তোষা জাতের পাটের খারাপ অংশটুকুকে বলে বিটিআর। বার সাদা জাতের পাটের খারাপ অংশকে বিডব্লিউআর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের (বিজেএ) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের কাঁচা পাট ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রাজিল, আইভরিকোস্ট, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, রাশিয়া, জিবুতী, নেপাল, কিউবা, জার্মানী, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় ২৮/৩০টি দেশে রফতানি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাঁচা পাট রফতানি হয় পাকিস্তান, চীন ও ভারতে।
পাট রফতানিকারক ও খুলনার আকুঞ্জি ব্রাদার্সের মালিক হারুন-অর-রশিদ জানান, বর্তমানে যখন বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বেড়েছে। সেই মুহূর্তে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এতে অর্ডার অনুযায়ী পাট দিতে না পারলে বায়ার (ক্রেতা) কমে যাবে। সেই সাথে রফতানি হ্রাস পাবে।  বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী বলেন, কোন কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা হতাশ। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যে মুহূর্তে পাট সেক্টরে ব্যবসা ফিরে এসেছে, সেই মুহূর্তে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞাজারী করা হল। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কাঁচা পাট সেক্টর ক্ষতির মুখে পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ