ঢাকা, শনিবার 20 January 2018, ৭ মাঘ ১৪২৪, ২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রেকর্ড রানে শ্রীলংকাকে হারাল বাংলাদেশ

ম্যাচ জয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উল্লাস -সংগ্রাম

বাংলাদেশ : ৩২০/৭ (৫০ ওভার)
শ্রীলংকা : ১৫৭/১০ (৩২.২ ওভার)
ফল : বাংলাদেশ ১৬৩ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাকিব আল হাসান।
রফিকুল ইসলাম মিঞা : প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকাকেও রেকর্ড রানের ব্যবধানে হারাল টাইগাররা। টাইগারদের কাছে ব্যাটে-বলে পাত্তাই পেলনা হাথুরুসিংহের দল শ্রীলংকা। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারানোর পর গতকাল শ্রীলংকাকে ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় মাশরাফিরা। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে পয়েন্টে সবার উপরে উঠে গেল বাংলাদেশ। স্বাগতিক বাংলাদেশের ফাইনালে খেলাও নিশ্চিত হয়ে গেছে প্রথম দুই ম্যাচে জয় নিয়ে। কারণ গতকাল দুটি বোনাস পয়েন্ট নিয়ে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১০। এদিকে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় হাথুরুসিংহের শ্রীলংকা। ফলে টানা দুই ম্যাচ হেরে শ্রীলংকা শূন্য পয়েন্ট নিয়ে আছে সবার নিচে। শ্রীলংকার বিপক্ষে এই ম্যাচে জয়ের আশা থাকলেও এতো বড় জয়ের প্রত্যাশা ছিলনা মাশরাফিদের। কারণ শ্রীলংকার বিপক্ষে রের্কড গড়েই জিতেছে মাশরাফিরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাংলাদেশের এটা সর্বোচ্চ রান ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬০ রানের ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা।
এই ম্যাচে শ্রীলংকার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল কোচ হাথুরুসিংহেও। তবে মাশরাফিরা কোচ হাথুরুসিংহেকে মাঠের জবাবটা ভালোই দিয়েছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জয়। গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করে তামিম, সাকিব ও মুশফিকের হাফ-সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে করে ৩২০ রানের বিশাল স্কোর। তামিম ৮৪, সাকিব ৬৭ ও মুশফিকুর ৬২ রান করেন। জয়ের জন্য ৩২১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলারদের আক্রমণে মাত্র ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় লংকানরা। ফলে বাংলাদেশ জয় পায় ১৬৩ রানে। দলটি খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। ৩২.২ ওভারেই দলটি হারায় সবকটি উইকেট। জয়ের জন্য শ্রীলংকার সামনে ৩২১ রানের টার্গেটটা কঠিনই ছিল। আবার টাইগার বোলারদের বোলিং আক্রমনে প্রথম থেকেই লংকান ব্যাটসম্যানরা শক্ত হাতে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে নিয়মিত উইকেট বিলিয়ে ইনিংসের মাঝ পথেই খেই হারিয়ে ফেলে দলটি। কোন ব্যাটসম্যানই দলের হয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। বাংলাদেশের ইনিংসে তিনটি ফিফটি থাকলেও শ্রীলংকা একটি ফিফটিও করতে পারেনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন থিসারা পেরেরা। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন চন্ডিমাল। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নেন সাকিব। এছাড়া মাশরাফি আর রুবেল নেন দুটি করে উইকেট। অল রাউন্ডার পারফরমেন্স করে সাকিব আল হাসান হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। গতকাল ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২ রানেই শ্রীলংকা হারায় প্রথম উইকেট। ওপেনার পেরেরা মাত্র এক রান করে নাসিরের বলে বোল্ড হলে প্রথম ধাক্কা খায় লংকানরা। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে থারাঙ্গার সাথে জুটি করে মেন্ডিস দলকে ৪৩ রানে নিয়ে যায়। দলীয় ৪৩ রানে শ্রীলংকা হারায় অপর ওপেনার থারাঙ্গাকে। মাশরাফির বলে রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হওয়ার আগে থারাঙ্গা করেন ২৫ রান। দলীয় ৬২ রানে শ্রীলংকা হারায় তৃতীয় উইকেট। এবার মাশরাফি বলে রুবেলের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে মেন্ডিস করেন ১৯ রান। তবে চন্ডিমাল আর গুনারতেœর উপর ভর করে শ্রীলংকা শতরান পার করলেও দলীয় দলীয় ১০৬ রানে দলটি হারায় চন্ডিমাল এর উইকেট। সাকিবের বলে রান আউহ হয়ে বিদায়ের আগে চন্ডিমাল করেন ২৮ রান। ১০৬ রানে প্রথম ৫ উইকেট হারিয়ে দলটি ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। তবে বোলার থিসারা পেরেরার উপর ভর করে দলটি পরাজয়ের ব্যবধানটা একটু কমাতে পেরেছে। কারণ দলীয় ১৫০ রানে পেরেরার বিদায়ে দলটি হারায় ৮ উইকেট। সাকিবের বলে আউট হওয়ার আগে পেরেরা করেন সর্বোচ্চ ২৯ রান। পেরেরার বিদায়ের পর ১৫৭ রানেই আটকে যায় শ্রীলংকা।
গতকাল টস জিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। অধিনায়কের এই সিদ্বান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও আনামুল হক বিজয়। শ্রীলংকার বোলারদের বিপক্ষে মারমুখী মেজাজে ছিলেন বিজয়। অন্যপ্রান্তে ব্যাট হাতে খানিকটা মন্থর ছিলেন তামিম। তবে প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে দলের স্কোরটা ফিফটি রান পেরিয়ে ৭১ রানে নিয়ে যান দু-ওপনার। দলীয় ৭১ রানে বিজয়ের বিদায়ে বিচ্ছিন্ন হয় ওপেনিং জুটি। পেসার থিসারা পেরেরার শিকার হওয়ার আগে বিজয় ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৩৫ রান তুলে নেন। দ্বিতীয় উইকেটে জুটিতে ক্রিজে তামিমের সঙ্গী তৃতীয় স্থানে ব্যাট করা সাকিব আল হাসান। আর প্রতিপক্ষ বোলারদের বিপক্ষে মারমুখী ব্যাটিং করেন তারা। ফলে এ জুটির কল্যাণেই বড় সংগ্রহের সুযোগ পেয়ে যায় বাংলাদেশ। দলকে ভালো অবস্থায় নিতে গিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪০তম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির করেন তামিম। হাফসেঞ্চুরি করা তামিম সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। কিন্তু ৮৪ রানে থেমে যেতে হয় তাকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০২ বলে নিজের ৮৪ রানের ইনিংস সাজান তামিম। সাকিবের সাথে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮৬ বলে ৯৯ রান যোগ করেন এই ওপনার। সেখানে তার অবদান ছিলো ৫০ বলে ৫৪ এবং সাকিবের সংগ্রহ ছিলো ৩৬ বলে ৪০ রান। দলীয় ১৭০ রানে তামিমের বিদায় হলেও সাকিব ও মুশফিক মিলে রানের চাকা সচল রাখেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৬তম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলেও নেন সাকিব। তবে ৬৭ রানে গিয়ে থামতে হয় সাকিবকে। ৭টি চারের সহায়তায় নিজের ৬৩ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি। সাকিবের বিদায়ের পর মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটেও হাফ- সেঞ্চুরির জুটি গড়েন মুশফিক। মাত্র ৪৪ বল মোকাবেলা করে ৫০ রান যোগ করেন তারা। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩ বলে ২৪ রান করে মাহমুদুল্লাহ ফিরে গেলেও, দলকে বড় স্কোরের পথেই রেখেছিলেন মুশফিক। কিন্তু শ্রীলংকার পেরেরার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ৬২ রানেই থামতে হয় তাকে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৮তম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে ৫২ বল মোকাবেলায় ৪টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন মুশফিক। মুশফিকুরের আউটের পর উইকেট গিয়ে দ্রুতই বিদায় নেন মাশরাফি ও নাসির হোসেন। মাশরাফি ৬ ও নাসির শুন্য হাতে ফিরলেও শেষদিকে ১২ বলে ২৪ রানের একটি ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২০ রানে পৌঁছে দেন সাব্বির রহমান। সাব্বিরের ছোট্ট ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। অন্যপ্রান্তে ৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এই নিয়ে দ্বাদশবারের মত তিনশ বা ততোধিক দলীয় রান সংগ্রহ করলো বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। শ্রীলংকার পক্ষে পেরেরা ৩টি ও ফার্নান্দো ২টি উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ