ঢাকা, শনিবার 20 January 2018, ৭ মাঘ ১৪২৪, ২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাইকারী পর্যায়ে কমছে পেঁয়াজের ঝাঁজ নানা অজুহাতে বাড়ছে সবজির দাম

স্টাফ রিপোর্টার : শীত শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় দফায় নানান অজুহাতে সবজির দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা। প্রতি বছরের মতো ক্রেতারা শীতে সবজির মূল্য কিছুটা কম প্রত্যাশা করলেও বাজারে এবার তা দেখা যায়নি। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এবার শীতে বাড়তি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সবজি। এদিকে পাইকারী পর্যায়ে দেশী পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে এখনো দাম কমেনি। খুচরা পর্যায়ে দাম কমতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সবজির মূল্য বৃদ্ধি সর্ম্পকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টঙ্গীতে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রভাবে গত সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা বেড়ে যায়। সেই অবস্থা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার কারণে সবজির গাড়ি আসতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ঘন কুয়াশায় উত্তরাঞ্চলে ফসলের ক্ষতি ও পণ্য সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় পাইকারী বাজারে সবধরনের সবজির দাম বেড়েছে। পাইকাররা বলছে ঘন কুয়াশায় সবজি পঁচে যাচ্ছে। যে হারে সবজির ট্রাক আসতো সংকটের কারণে তা অর্ধেকের বেশিতে নেমেছে।
দাম বাড়লেও বাজারে শীতের সবজির কোনো কমতি নেই। টমেটো, শিম, লাউ, কাঁচা-পাকা মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি (শালগম), পেঁয়াজের কলি, বেগুন, মুলা, লাল শাক, পালন শাক ও লাউ শাক সবকিছুই বাজারে ভরপুর।
এদিকে দাম বাড়ার তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে শীতের অন্যতম প্রধান সবজি ফুলকপি। প্রতিপিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা দরে, এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৩৫-৪০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২০-৩০ টাকা। পাতাকপি আগের সপ্তাহের মতোই ৩০-৩৫ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
শিমের দামও অস্থিতিশীল রয়েছে। হঠাৎ করেই ৬০ টাকা হয়ে যাওয়া শিম এখনও ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন আলু বাজারে না থাকলেও নতুন আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শালগম ২০ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মুলা ২০ থেকে ২৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, ঢেড়শ ৮০-১০০ টাকা, টমেটা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির বাজারে নতুন হওয়াতে মটরশুটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে। নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে লাল শাক ও পালন শাক। গত সপ্তাহে ৫ টাকা আঁটি বিক্রি হওয়া লাল ও পালন শাকের দাম বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা।
সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. আয়নাল হোসেন বলেন, অনেকের জমিতে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার বিশ্ব ইজতেমার কারণে ঢাকার ভেতরে সবজির গাড়ি আসতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। তবে বাজারে এখন কোনও সবজির অভাব নেই।
মসলার বাজারে দেখা গেছে, দেশী পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। তবে খুচরা পর্যায়ে এখনো কোন কোন বাজারে দাম কমেনি। পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। দেশী ছোট পেঁয়াজ ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা কেজি। এছাড়া ছোট রসুন ৮০ টাকা ও বড় রসুন ৯০ টাকা, বড় আদা ১০০ টাকা ও ছোট আদা ৯০ টাকা। মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চালের বাজারের অস্থিরতা এখনও বিরাজমান। চালের সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, কেজি প্রতি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬২ টাকা, বিআর-২৮ ৫২ টাকা, পারিজা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়।
মাছ, গোশত ও ডিমের বাজার গত সপ্তাহের মতই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর গোশত ৪৮০-৫০০ টাকা এবং খাসির গোশত ৭৫০ টাকা কেজি।  ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কক মুরগি প্রতি পিস সাইজ অনুযায়ী ১৫০-২২০ টাকা দরে পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামটাও গত সপ্তাহের সঙ্গে মিল রেখে বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকা হালিতে।
মাছের পাইকারী ও খুচরা বাজারে ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১০০ টাকা, কার্প ১৪০ টাকা, কাতল মাছ ২৫০ টাকা, মেনি মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৪০ টাকা ও চিংড়িমাছ ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ